দক্ষিণ পূর্ব

কর্ণফুলীর ১০ হটস্পটে মশকনিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৩ অক্টোবর ২০২৬ ১১:৩৭ দুপুর
সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
পঠিত : ৩১
কর্ণফুলীর ১০ হটস্পটে মশকনিধন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচি

ছবি

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চিহ্নিত ১০টি ‘হটস্পটে’ মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে র‌্যালি ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিও পালন করা হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সৈন্যাটেক থেকে ব্রিজঘাট পর্যন্ত সচেতনতামূলক র‌্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচির শুরু হয়। পরে চরপাথরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ফগার মেশিন চালিয়ে মশকনিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এরপর তিনি উপজেলার বিভিন্ন ডেঙ্গু হটস্পট পরিদর্শন করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক বলেন, গত সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছিল। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। সীতাকুণ্ড ও কর্ণফুলীতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি ছিল।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে সীতাকুণ্ডে সাত দিনের বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া হয়। ওই কর্মসূচির পর গত এক সপ্তাহে সেখানে ডেঙ্গুতে নতুন কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি হাসপাতালেও নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা কমছে।

জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের হাসপাতালগুলোতে গত দুই দিনে যথাক্রমে ৯২ ও ৪৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে রোগের বিস্তার ঠেকানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘শুধু চিকিৎসা দিয়ে আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলা করতে পারব না। আমাদের ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করতে হবে।’

বাড়িঘর, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া এবং ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান জেলা প্রশাসক।

তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১২ সেপ্টেম্বর জেলার প্রায় দুই হাজার মসজিদ ও মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন উপজেলায় পরিচ্ছন্নতা, মশকনিধন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গুতে যারা মারা গেছেন তারা আমাদেরই স্বজন। এভাবে আর কারও প্রাণহানি হোক—এটি কেউ চায় না।

চিকিৎসা প্রস্তুতির বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্দিষ্টসংখ্যক শয্যা রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটও সরবরাহ করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ) মো. কামরুজ্জামান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আমিরুল মোস্তফাসহ উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।