স্বাধীনতার আগে কিংবা পরেও এ দেশে জমিদার বা আর্থিক স্বচ্ছল ব্যক্তিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। পরে ধাপে ধাপে যুগের চাহিদা অনুযায়ী ব্যক্তিবিশেষ বা সংগঠন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রসারে ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছেন। স্বাধীনতার পর থেকেই সরকার শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তা করে আসছে যা আজকের দিনে কি পরিমানে দাড়িয়েছে তা সকলের জানা।
ভালো পরিবেশে, নিরাপদে শিক্ষকরা যাতে শিক্ষার্থীদের মান সম্মত পাঠদান করতে পারেন,শিক্ষার মান উন্নয়ন করতে পারেন,সেজন্য সরকার ধারাবাহিকভাবে দেশের সকল প্রতিষ্ঠানে ভৌত অবকাঠামো নির্মান করে দিয়ে আসছে যা এখনো চলমান। অন্যদিকে শিক্ষকদেরও নতুন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ শিক্ষক হিসেবে গড়ে তোলার প্রক্রিয়াও চলমান।
এক সময় কিছুই ছিল না কিন্তু আজ শিক্ষক আছে, শিক্ষার্থী আছে,ভৌত অবকাঠামো আছে, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক আছে কিন্তু ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম। প্রায় প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী অনুপস্থিত কিংবা কলেজে আসলেও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকে না। প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী অনুপস্থিতির বিষয়ে এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অনলাইনে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়। বাড়ি থেকে কলেজ অনেক দূরে হয়।
যাতায়াতের অসুবিধার কারণে কিংবা আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার কারণে কিংবা ক্লাস চলাকালীন সময়ে বিভিন্ন চাকরিতে থাকার কারণে কলেজে উপস্থিত থাকতে পারে না।এসব বিষয়ে শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করে থাকেন। কলেজ লেভেলে যদি চিন্তা করি,শিক্ষাবোর্ডের নিয়মমতে একাদশ শ্রেণিতে সাময়িক পরীক্ষা ও একাদশ শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। আগে শিক্ষাবোর্ডের নিয়ম ছিলো একাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের তালিকা বোর্ডে প্রেরণ করা। একাদশ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। কিন্তু মনে হয় এখন বোর্ডও তালিকা চায় না কিংবা কলেজও সে রকম চাপাচাপি করে না। দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীরা প্রাক নির্বাচনী ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারতো।
শুধুমাত্র নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই এইচএসসি চুড়ান্ত পরীক্ষায় ফরম পূরণ করতে পারতো। তারপর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মডেল টেস্ট কিংবা বিশেষ কোচিং এর ব্যবস্থা করতো। তারপর চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতো। এখন প্রশ্ন হলো এ বিধিবিধান বা আইনগুলো তো আমরা কেউ বাস্তবায়ন করছি না।
শিক্ষাবোর্ড বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বলেন, শিক্ষার্থী বলেন,অভিভাবক বলেন, কেউ মেনে চলছি না। ফলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। কলেজে না এসে কিংবা উল্লেখিত ধাপসমূহ না মেনে যদি কোন শিক্ষার্থী চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারে তাহলে ঐ শিক্ষার্থী কোনদিনও ক্লাসে যাবে না। অভিভাবকগণও তাঁর সন্তানকে ক্লাসে পাঠাবেন না। কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে দু'বছর এবং স্নাতক পর্যায়ে তিন বছর শ্রেণি কার্যক্রমে শুধুমাত্র বোর্ড বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনগুলো মান্য করা হয় তাহলেই শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত থাকবে এবং ভালো ফলাফল করবে। প্রতিষ্ঠানে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল করানো যেমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এর দায়িত্ব ঠিক তেমনি অভিভবকদের দৃষ্টি থাকে তাঁদের সন্তানরা যাতে ভালো ফলাফল করে।
প্রতিষ্ঠান,শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরিয়ে আনতে হবে। সাথে সাথে বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন কার্যক্রম আরো জোরদার করলে এ কার্যক্রমের সফলতা আসবে। অপরদিকে ক্লাস চলাকালীন সময়ে সকল কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা।
অভিভবকগণ কলেজে ভর্তি করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠাই কোচিং সেন্টারে। শিক্ষকগণ মনে করেন শিক্ষার্থীরা ক্লাসে না আসায় শিক্ষার্থীরা ফেল করছে। অভিভাবকগণ মনে করেন, ক্লাসে শিক্ষকরা মনযোগ দিয়ে পাঠদান করান না তাই বাধ্য হয়ে তাঁদের সন্তানদের কোচিং সেন্টারে পাঠাতে হয় ভালো ফলাফলের প্রত্যাশায়। তাই আপাততঃ বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান বিধিমালা গুলো মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ গ্রহণ করলে এবং সকল স্টেকহোল্ডারগণ সহযোগিতা করলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখ্যযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবেই।
লেখক:
অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন
সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি (বাকশিস)
চট্টগ্রাম জেলা শাখা।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।