দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের শিক্ষা, সাহিত্য ও আদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ।
তিনি বলেন, ‘নজরুল ছিলেন বিদ্রোহী কবি। তাঁর সাহিত্যকর্ম ও কবিতা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। তাঁর বিদ্রোহী কবিতা আজও নতুন প্রজন্মকে সাহস ও প্রেরণা জোগায়।’
সোমবার চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউটে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক সহযোগিতায় এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আয়োজনে ২০২৬-২০২৭ নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন।
এরশাদ উল্লাহ বলেন, নজরুল তাঁর অসামান্য প্রতিভার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অনন্য অবদান রেখে গেছেন। তাঁর সাহিত্যকর্ম তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নজরুল বর্ষ উদযাপনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকারগুলো শুধু কবির জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী পালন করলেও বর্তমান সরকার প্রথমবারের মতো দেশব্যাপী শিক্ষার্থীদের নজরুলকে গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দিতে এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম তরুণ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে নজরুল বর্ষ উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।’
তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলে হবে না, স্বশিক্ষিতও হতে হবে। নজরুল, রবীন্দ্রনাথ ও মাইকেল মধুসূদন দত্তের মতো কবি-সাহিত্যিকদের লেখা বেশি বেশি পড়তে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, নজরুলের সাহিত্য থেকে সামাজিক শিক্ষা, মানবিকতা, সাম্য, ন্যায়বোধ ও সুশিক্ষার অনুপ্রেরণা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানী, মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়; শিক্ষা মানুষকে আলোকিত, বিবেকবান ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল করে তুলবে। জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সত্য ও ন্যায়ের প্রতি অবিচলতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ অর্জন করলেই শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য সফল হবে।
চসিকের শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, নগরীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে সিটি করপোরেশন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নেও ভবিষ্যতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সভাপতি ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক শাহনাজ পারভীন সিঁথি, প্রখ্যাত সংগীত ব্যক্তিত্ব আবদুল মান্নান রানা, থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামের পরিচালক অভীক ওসমান এবং জাসাস চট্টগ্রাম মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ শিপন।
বক্তারা বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম, মানবিকতা, সাম্য, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতা বিকশিত করা সম্ভব। জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন নতুন প্রজন্মকে জাতীয় কবির জীবন, কর্ম ও আদর্শের সঙ্গে পরিচিত করার পাশাপাশি তাদের সাংস্কৃতিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।