বয়ঃসন্ধিকালে অনিয়মিত ঋতুস্রাব, অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ব্রণ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত লোমকে বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তন মনে করে অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, কিশোরী ও তরুণীদের শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজকে সচেতন হতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে স্বাস্থ্য সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা গেলে ভবিষ্যতের জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বুধবার নগরের রেডিসন ব্লু বে ভিউয়ের মেজবান মিলনায়তনে ‘পলি এন্ডোক্রাইন মেটাবলিক ওভারিয়ান সিনড্রোম (পিএমওএস) সচেতনতা মাস’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘পিএমওএস অনুধাবন: প্রারম্ভিক শনাক্তকরণ, সার্বিক যত্ন’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (ওজিএসবি), চট্টগ্রাম শাখা এ সেমিনারের আয়োজন করে।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কিশোরীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা সামাজিক দায়িত্ব। অনেক সময় কিশোরীদের হরমোনজনিত সমস্যাকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না। ফলে ছোট বয়সের একটি সমস্যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে। তাই পরিবারকে সচেতন করার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ পর্যায়েও স্বাস্থ্যশিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ কিশোরী ও তরুণীদের সুস্থতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত ঋতুস্রাব, অস্বাভাবিক ওজন বৃদ্ধি, অতিরিক্ত ব্রণ বা অনাকাঙ্ক্ষিত লোমের মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। লজ্জা বা সংকোচের কারণে এসব সমস্যা গোপন না রেখে সময়মতো চিকিৎসার আওতায় আনতে হবে।
মেয়র আরও বলেন, নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ ও সামগ্রিক জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি জড়িত। কিশোরী বয়স থেকেই স্বাস্থ্য সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ওজিএসবি চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. জিনাত আরা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনিসুল হোসাইন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফারহানা আক্তার এবং গাইনোকোলজি বিভাগের সাবেক প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহানারা চৌধুরী। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ ডা. সেলিয়া নিং (সিনিয়র ডিরেক্টর, কেরি এপেমা) বক্তব্য দেন।
এ ছাড়া চর্মরোগ, হরমোন, মানসিক স্বাস্থ্য ও ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন অধ্যাপক ডা. রোকেয়া বেগম, অধ্যাপক ডা. শামীমা সিদ্দিকা, ডার্মাটোলজিস্ট ডা. নিশীথ রঞ্জন দে এবং সাইকোলজিস্ট তোফা হাকিম।
বক্তারা বলেন, পিএমওএস শুধু ডিম্বাশয় বা গর্ভধারণকেন্দ্রিক কোনো একক সমস্যা নয়; এটি হরমোন ও বিপাকীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে কিশোরী ও তরুণীদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
তারা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জীবনযাপনে পরিবর্তন না আনলে পরবর্তী সময়ে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও প্রজননস্বাস্থ্যজনিত জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনোকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. তাজিন সুলতানা, অধ্যাপক ডা. মাফরুহা খানম পরাগ, অধ্যাপক ডা. তাহেরা বেগম এবং একমি ল্যাবরেটরিস লিমিটেডের পরিচালক (বিক্রয় ও বিতরণ) আবু জাফর মহিউদ্দিনসহ সংশ্লিষ্টরা।
দিনব্যাপী এ সেমিনারে সায়েন্টিফিক পার্টনার হিসেবে ছিল একমি ল্যাবরেটরিস লিমিটেড।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।