দক্ষিণ পূর্ব

খাদ্য অধিদপ্তরের পদোন্নতি তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

shakhawat sohan
প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
খাদ্য অধিদপ্তরের পদোন্নতি তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক 

খাদ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পদোন্নতির প্রস্তাবে বড় ধরনের অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। 

গত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে ১০ম গ্রেডের ৮২ কর্মকর্তাকে ৯ম গ্রেডে পদোন্নতির জন্য সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে তাদের মধ্যে ১০ কর্মকর্তার পদোন্নতি ঝুলে গেছে। কারণ—তারা গত কয়েক বছরের গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) জমা দেননি।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এই ১০ কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে এসিআর জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। অথচ ‘গোপনীয় অনুবেদন অনুশাসনমালা-২০২৩’-এর ২.৬.৫ ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে, সময়মতো এসিআর জমা না দেওয়া ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে—যার মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত, ওএসডি করা কিংবা চাকরিচ্যুতির মতো পদক্ষেপও থাকতে পারে।

এসিআর না দেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে দুজন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বলে জানা গেছে। তাদের একজন গোলাম মোস্তফা, যিনি সম্প্রতি ফেনীর ছাগলনাইয়া খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে বদলি হয়ে খাগড়াছড়ির পানছড়ি খাদ্য গুদামে যোগদান করেছেন। তার বিরুদ্ধে আগের সরকারের সময় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এসিআর জমা দেননি, যাতে পদোন্নতি প্রক্রিয়া এড়ানো যায়।

তবে গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, এই গোলাম মোস্তফা আমি নই। মনে হয় অন্য কেউ—উনার বাড়ি উত্তরবঙ্গে, বরগুনা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে চাকরি করেন। কিন্তু বরিশাল আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবদুল কাদের এবং বরগুনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন দুজনই জানিয়েছেন—বরগুনায় এমন নামে কোনো কর্মকর্তা নেই।

অন্যদিকে, রাঙামাটি সদর খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা মোরশেদুল করিম ২০২১ সালের এসিআর জমা না দেওয়ায় পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যদি এসিআর জমা না দেন, আমি কী করবো? সবাই পদোন্নতির অপেক্ষায় থাকে।

খাদ্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, বিভিন্ন জেলায় খাদ্য গুদামগুলোতে সরকারি চাল নিয়ে কারসাজি, ডিও ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে কালোবাজারি ও অবৈধ লেনদেন চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। এসব অনিয়মের মূল কারিগর হিসেবে গুদাম কর্মকর্তাদের নামই সবচেয়ে বেশি শোনা যায়।

রাঙামাটি এলএসডিতে দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার সময় গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ একাধিকবার উঠেছে। যদিও তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি চাকরিতে বদলি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, অভিযোগ থাকতেই পারে।”

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এসিআর যাচাই শেষে পিএসসিতে চূড়ান্ত পদোন্নতির তালিকা পাঠানো হবে। তবে অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের প্রস্তুতিও চলছে।

এসএস 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।