দক্ষিণ পূর্ব

লালদিয়া টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬
পঠিত : ৩৭
লালদিয়া টার্মিনালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আজ

ছবি সংগৃহীত

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন:

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে নির্মাণ হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে কনটেইনার টার্মিনাল। ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগে ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালস নির্মাণ করবে এ আধুনিক গ্রিনফিল্ড টার্মিনাল।

আজ রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টায় পতেঙ্গার লালদিয়া প্রজেক্ট সাইটে টার্মিনালটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন ও গ্রাউন্ড ব্রেকিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালটি চালু হলে বন্দরের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বছরে ৮ লাখের বেশি টিইইউএস (২০ ফুট সমমানের) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে এখানে। একই সঙ্গে প্রায় ৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভিড়তে পারবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগে দেশের অন্যতম বৃহৎ এ টার্মিনালের নির্মাণকাজ শুরুর মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর নতুন যুগে প্রবেশ করবে। আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

কর্ণফুলীর দক্ষিণ তীরে পতেঙ্গার লালদিয়ার চরে প্রায় ৪৯ দশমিক ১৫ একর জমিতে টার্মিনালটি নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে ৩২ একর এলাকায় মূল টার্মিনাল, ৭ দশমিক ১৫ একরে কনটেইনার ইয়ার্ড এবং প্রায় ১০ একর জায়গায় ট্রাক পার্কিং ও প্রি-গেট সুবিধা থাকবে।

নকশা অনুযায়ী টার্মিনালে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জেটি নির্মাণ করা হবে। থাকবে সাতটি শিপ-টু-শোর (এসটিএস) গ্যান্ট্রি ক্রেন, ৩২টি ইলেকট্রিক রাবার-টায়ার গ্যান্ট্রি ক্রেন (ইআরটিজি) এবং ৪১টি ইলেকট্রিক টার্মিনাল ট্রাক্টর। প্রায় ১০ থেকে ১০ দশমিক ৫ মিটার ড্রাফটের জাহাজ এখানে ভিড়তে পারবে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় আকারের কনটেইনার জাহাজ সরাসরি জেটিতে ভেড়ানোর সুবিধা চালু হলে বহির্নোঙরে অপেক্ষার সময় কমার পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যয় ও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার লক্ষ্যে ২০২১ সালের ৩০ জুন বাংলাদেশ ও ডেনমার্ক সরকারের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। পরে ২০২৩ সালে প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও এপিএম টার্মিনালসের মধ্যে কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মেয়াদ ৩৩ বছর। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এপিএম টার্মিনালস ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ৮ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত প্রতিটি কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের বিপরীতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ২১ মার্কিন ডলার এবং ৮ লাখের বেশি থেকে ৯ লাখ টিইইউএস পর্যন্ত প্রতিটি কনটেইনারে ২৩ মার্কিন ডলার পাবে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল সক্রিয় রয়েছে। লালদিয়া টার্মিনাল চালু হলে এটি হবে বন্দরের পঞ্চম কনটেইনার টার্মিনাল। বছরে অতিরিক্ত ৮ লাখের বেশি টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা যুক্ত হবে।

বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন এ টার্মিনালে বড় জাহাজ সরাসরি ভেড়ানোর সুবিধা চট্টগ্রাম বন্দরের সামগ্রিক সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আনবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, বিদ্যুৎচালিত সরঞ্জাম ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার কারণে এটি পরিবেশবান্ধব টার্মিনাল হিসেবেও গড়ে উঠবে।

বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশে টার্মিনাল পরিচালনা করে এপিএম টার্মিনালস। বিশ্বের শীর্ষ ২০টি দক্ষ কনটেইনার বন্দরের ১০টিতেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম রয়েছে। লালদিয়া টার্মিনালকে আধুনিক, কম কার্বন নিঃসরণকারী ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী টার্মিনালের মডেল হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ায় গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একটি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে গ্রিনফিল্ড প্রকল্পে বিনিয়োগ দেশের জন্য সুখবর। টার্মিনালটি চালু হলে বন্দরের সেবার মান ও প্রতিযোগিতা বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও এর সুফল পাবেন।

আরএইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।