উদ্বোধনের একদিন আগে বৃহস্পতিবার সাইকেল ট্র্যাকের নির্মাণকাজ ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
পরিদর্শনকালে মেয়র ট্র্যাকটির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উদ্বোধন ঘিরে চলমান প্রস্তুতি, নির্মাণমান ও নাগরিকদের চলাচলের সুবিধা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি ট্র্যাকটি ব্যবহারকারীবান্ধব, নিরাপদ ও নান্দনিকভাবে প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘চট্টগ্রামকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা পরিকল্পিতভাবে কাজ করছি। বাংলাদেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের নগর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। এটি শুধু একটি সাইকেল চলাচলের পথ নয়, বরং পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর নগরজীবনের দিকে আমাদের অগ্রযাত্রার প্রতীক।’
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ‘চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট রোড সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রায় ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি চার লেনবিশিষ্ট। সড়কের দুই পাশে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফুটপাত। মাঝখানে কার্বস্টোন দিয়ে মিড আইল্যান্ড এবং এক পাশে ল্যান্ডস্কেপিং ওয়াকওয়ের সঙ্গে নির্মাণ করা হয়েছে সাইকেল ট্র্যাক।
মেয়র বলেন, এর ফলে সড়কটি শুধু যান চলাচলের উপযোগী হবে না, নগরীর সৌন্দর্য ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করবে।
নগরবাসী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ, আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, সাইকেল চলাচলের জন্য পৃথক লেন থাকায় সাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা বাড়বে। পাশাপাশি নগরীতে পরিবেশবান্ধব যাতায়াতের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে এবং নাগরিকদের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতন ও সক্রিয় জীবনযাপনের প্রবণতা বাড়বে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণ প্রজন্মকে সাইকেল ব্যবহারে উৎসাহিত করতে হবে। নিরাপদ সাইকেল চলাচলের পরিবেশ তৈরি হলে সাইকেল ব্যবহারের প্রবণতা বাড়বে, যানজট ও দূষণ কমবে এবং নাগরিকদের স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উৎসাহিত করা সম্ভব হবে। চট্টগ্রামকে একটি সাইকেলবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের এ উদ্যোগ নগরীর পরিবহন ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সাইকেল ব্যবহারে আগ্রহ তৈরি, শরীরচর্চার সুযোগ বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাইকেল ট্র্যাকটি ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগামীকাল আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর নগরবাসীর জন্য বাংলাদেশের প্রথম এ সাইকেল ট্র্যাক উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী বোরহান উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, সহকারী প্রকৌশলী মো. আলী, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়া এবং মেয়রের একান্ত সচিব (অ. দা.) আজিজ আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।