চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টির অস্তিত্ব এখন নেই বললেই চলে। নেতা নেই। কর্মী নেই। মাঠ নেই। আছে শুধু আওয়ামী লীগের আমলে ফুলেফেঁপে ওঠা সম্পদের গল্প।
চট্টগ্রামের সোলায়মান আলম শেঠ। জাতীয় পার্টির রাজনীতি করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে কয়েকগুণ। চট্টগ্রামের বালি আর্কেডসহ নানা সম্পদ গড়েছেন তিনি আওয়ামী আমলেই। এখন তার রাজনীতির মাঠে দেখা নেই।
শুধু শেঠ নন। দলটিকে প্রধান বিরোধী দলের স্বীকৃতি দিয়ে মন্ত্রীত্বও দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। মন্ত্রীত্বের সুবিধা নেওয়া সেই আনিসুল ইসলাম মাহমুদও এখন কোথাও নেই। উত্তর চট্টগ্রামের প্রভাবশালী নেতা ছিলেন তিনি। এখন চলে গেছেন আড়ালে।
স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগের ছায়ায় থেকে সুবিধা নিয়েছেন দলটির সবাই। প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। কিন্তু দলের জন্য মাঠে নামেননি। চট্টগ্রামের রাজনীতি সচেতন মানুষ এখন তাদের বলছে, সুবিধাবাদী।
বন্যার সময়ও তাদের পাওয়া যায়নি কোথাও। উত্তর ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যাননি কেউ। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াননি।
আওয়ামী লীগের আমলেই জাতীয় পার্টির দুই নেতা জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু ও আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে নৌকা প্রতীক দেয়া হয়। সংসদে পাঠানো হয়। আনিসুল হন পূর্ণ মন্ত্রী। বিনিময়ে দলকে শক্তিশালী করার কোনো উদ্যোগ ছিল না তার।
আরেক নেতার কাহিনী আরও কালো। ব্যাংকের টাকা মেরে ছিলেন আত্মগোপনে। জাতীয় পার্টির নেতা-নেত্রী দম্পতি মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিম ও সাবেক এমপি বেগম মাহজাবিন মোর্শেদ। বিভিন্ন ব্যাংকে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ছিল তাদের। তাদের নামে ছিল একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। মোর্শেদ মুরাদ ইব্রাহিমের সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় তার মা গুলমান আরা বেগমের নামেও। একই সঙ্গে মা-ছেলের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয় আদালত। এইসব কেলেংকারী মাথায় নিয়ে দলটি চট্টগ্রামে তখনো ছিল ইমেজ সংকটে। ১৫ বছর আওয়ামী লীগের ছায়ায় থেকে ব্যক্তিগত সম্পদ বাড়িয়েছেন তারা। কিন্তু সংগঠন গোছাতে পারেনি।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সুসময়ে আওয়ামী লীগের দয়া নিয়ে এমপি মন্ত্রী হয়েছেন। দুঃসময়ে দলের চিহ্নও রাখেননি। ফলে চট্টগ্রামে জাতীয় পার্টি এখন ইতিহাস। মিছিল নেই। সভা নেই। মানুষের পাশে নেই। আছে শুধু ঋণখেলাপি আর সুবিধাবাদের কলঙ্ক।
আর /দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।