চট্টগ্রাম নগরীতে নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩ হাজার ৯২১ কোটি টাকার বৃহৎ উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এ কর্মসূচির আওতায় ৮৫টি গভীর নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তন, পানির অপচয় রোধ এবং স্মার্ট মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্র জানায়, ‘চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ প্রকল্পের’ আওতায় এসব গভীর নলকূপ স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৬০টি বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং বাকি ২৫টি ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ওয়াসার নিজস্ব অর্থায়নে স্থাপন করা সাতটি গভীর নলকূপের কাজ শেষ হয়েছে। সেগুলো থেকে পানি সরবরাহও শুরু হয়েছে।
প্রতিটি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক ১০ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে নগরীর উঁচু ও প্রান্তিক এলাকায় পানির চাপ কম থাকার সমস্যা নিরসনে এসব নলকূপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম বলেন, নগরবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা পূরণে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে কালুরঘাট এলাকায় ৩০টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। এসব নলকূপের পানি পাম্পের মাধ্যমে বহদ্দারহাট স্টেশনে নেওয়া হবে। পরে সেখান থেকে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হবে।
তিনি জানান, গত ২০ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় বৃহৎ উন্নয়ন কর্মসূচিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে বিশ্বব্যাংক ৩ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা, বাংলাদেশ সরকার ৫৭৮ কোটি টাকা এবং চট্টগ্রাম ওয়াসা নিজস্ব তহবিল থেকে ৭৪ কোটি টাকা অর্থায়ন করছে।
নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম সমস্যা পানির অপচয় ও সিস্টেম লস। পুরোনো অবকাঠামো এবং অবৈধ সংযোগের কারণে প্রতিনিয়ত বিপুল পরিমাণ পানি নষ্ট হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে খুলশী, এ কে খান, বায়েজিদ, অক্সিজেন, কালুরঘাট ও চাক্তাইসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পুরোনো ও জরাজীর্ণ পানির পাইপলাইন প্রতিস্থাপন করা হবে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় অটোমেটেড স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা ও ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া (ডিএমএ) নেটওয়ার্ক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য ১ লাখ স্মার্ট মিটার স্থাপনের কথা জানিয়েছে ওয়াসা। এর মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, পানির অপচয় কমানো, গ্রাহক পর্যায়ে পানির চাপের সমতা নিশ্চিত এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর প্রত্যাশা করছে সংস্থাটি।
ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরও জানান, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নগরীর বন্দর-পতেঙ্গা এলাকায় পানি সরবরাহ কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি মোহরা পানি শোধনাগার ও মদুনাঘাট এলাকায় নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এগিয়ে চলছে ‘কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-৩’-এর পরিকল্পনাও। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার এক্সিম ব্যাংকের অর্থায়নে ভাণ্ডালজুড়ি পানি শোধনাগারের সক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন, পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তন এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পানি বিতরণব্যবস্থা চালু হলে নগরীর পানি সরবরাহে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে। একই সঙ্গে পানির অপচয় রোধ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সূত্র: বাসস
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।