গত ২৪ ঘণ্টায় বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস। টানা বৃষ্টিতে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা আবারও জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেছে, ফলে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম জানান, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।এ অবস্থায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস আরও জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। মূলত বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে সমুদ্র উত্তাল থাকায় এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে বৃষ্টির ফলে নগরের মুরাদপুর, দুই নম্বর গেট, কাতালগঞ্জসহ বেশ কিছু নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
প্রবর্তক মোড় এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, খালগুলোতে রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য বাঁধ দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার প্রত্যাশার চেয়ে আগেই ভারী বৃষ্টি হওয়ায় পানি জমতে শুরু করে।
তিনি বলেন, “আমি আর্মি ও সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে বাঁধগুলো খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। বাঁধ খুলে দেওয়ার পর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে।”
নগরবাসীর ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, “গতকালের ঘটনার জন্য আমরা অত্যন্ত দুঃখিত। যদিও এসব কাজ সিডিএ কিংবা সেনাবাহিনী করছে, কিন্তু চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে আমি জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।”
এ সময় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ঠিকাদার ম্যাক্স গ্রুপের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগ্রাবাদ ও ইপিজেড এলাকায় র্যাম্প নামানোর কাজ এখনো শেষ হয়নি। দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি সিডিএর প্রতি আহ্বান জানান।
আর এইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।