দক্ষিণ পূর্ব

অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর চট্টগ্রাম প্রশাসন, খালের মাটি-কাঠ-টপসয়েল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ১ দিন আগে
পঠিত : ৪২
অবৈধ ইটভাটা বন্ধে কঠোর চট্টগ্রাম প্রশাসন, খালের মাটি-কাঠ-টপসয়েল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক:

চট্টগ্রামে আসন্ন ইটভাটা মৌসুমে সব ধরনের অবৈধ ইটভাটা বন্ধ রাখার পাশাপাশি ইটভাটায় জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উর্বর টপসয়েল ব্যবহার বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে খাল খনন ও উন্নয়নকাজ থেকে পাওয়া মাটি ইট তৈরিতে ব্যবহারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পরিবেশ ও বন উন্নয়ন কমিটির মতবিনিময় সভায় এসব নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে খাল খননের মাটি ইটভাটায় ব্যবহার, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ, জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহার রোধ এবং পরিবেশবান্ধব ব্লক ইট উৎপাদন ও ব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, আসন্ন ইটভাটা মৌসুমে অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। ফিক্সড চিমনী ও ড্রাম চিমনী ব্যবহারকারী অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ রাখতে সংশ্লিষ্ট মালিকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার এবং কৃষিজমির ওপরের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরি কোনোভাবেই করা যাবে না। এ বিষয়ে আইন ও বিধিবিধান কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।

কৃষিজমির টপসয়েল ব্যবহারের বিকল্প হিসেবে বৈধ উৎস থেকে পাওয়া মাটি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, খাল খনন বা উন্নয়নকাজের মাধ্যমে বৈধভাবে পাওয়া মাটি কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে কৃষিজমি কিংবা অন্য কোনো জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “এই পরিবেশটা সবার এবং এই পরিবেশে আমরা বসবাস করি। বসবাসের জন্য এই পৃথিবী ছাড়া আমাদের আর কোনো জায়গা নেই।”

তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের আচরণ ও কাজের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনতে হবে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে সময়মতো নিজেদের পরিবর্তন করতে না পারায় একসময় বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান কোডাকের অবস্থান বদলে যাওয়ার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরাপদ রাষ্ট্র, নিরাপদ সমাজ ও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের পরিচালক জমির উদ্দিন, চট্টগ্রাম জেলার উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমানসহ বন বিভাগ ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তারা সভায় ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন। এ ছাড়া জেলা ইটভাটা মালিক সমিতি ও বিভিন্ন উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

সভায় খাল খননের মাটি যথাযথভাবে কাজে লাগানো, অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপকরণের ব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।