দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে নিরাপত্তাহীনতা: এক বছরে প্রাণ গেল ৭৪ জনের

saiful
saiful
প্রকাশ : ৯ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:০৩ দুপুর
পঠিত : ২
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে নিরাপত্তাহীনতা: এক বছরে প্রাণ গেল ৭৪ জনের
Degchibarictg

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে একের পর এক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। ১৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেলপথে ৭৭টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। পাশাপাশি বৈধ ৯৯টি লেভেল ক্রসিংয়ের মধ্যে ৫৬টিতে নেই গেটম্যান। ফলে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ট্রেন, আর বিপদের মুখে পড়ছেন পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।

রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম–দোহাজারী অংশে বৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে ২৭টি এবং অবৈধ ৪৭টি। অন্যদিকে দোহাজারী–কক্সবাজার অংশে বৈধ ক্রসিং ৭২টি এবং অবৈধ ৩০টি। সব মিলিয়ে অবৈধ ক্রসিংয়ের সংখ্যা ৭৭টি। এর মধ্যে ২২টি বন্ধ করা হয়েছে এবং আরও ৩৫টি বন্ধের প্রক্রিয়া চলছে।

নিরাপত্তাব্যবস্থার এই ঘাটতির প্রভাব পড়ছে দুর্ঘটনার পরিসংখ্যানেও। রেলওয়ে পুলিশের হিসাবে, ২০২৫ সালে এই রেলপথে দুর্ঘটনায় ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩১ জন। অর্থাৎ দুই বছরেরও কম সময়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে। শুধু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ চালুর পর থেকে ২০২৪ সালে ২৭ জন, ২০২৫ সালে ৪৩ জন এবং ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৩১ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া রেলপথে একটি হাতির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমানোর ক্ষেত্রে এখনো কার্যকর অগ্রগতি প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন কান্তি দে জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের কাঠগড় লেভেল ক্রসিংয়ে পর্যটক এক্সপ্রেসের ধাক্কায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক আবদুস শুক্কুর ও যাত্রী আবু তাহের নিহত হন। দুর্ঘটনার পর নিরাপদ পারাপার ও গেটম্যান নিয়োগের দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা রেললাইন অবরোধ করেন।

এর আগে ৩ জুন সাতকানিয়ার ঢেমশা এলাকায় কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে নুরুন্নাহার বেগমের মৃত্যু হয়।

শুধু প্রাণহানিই নয়, অননুমোদিত লেভেল ক্রসিংয়ে দুর্ঘটনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে রেল যোগাযোগও। গত ২১ সেপ্টেম্বর পটিয়ার একটি অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেসের সঙ্গে একটি কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয় এবং কয়েক ঘণ্টা চট্টগ্রাম–কক্সবাজার ও ঢাকা–কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে।


রেলওয়ে কর্মকর্তাদের দাবি, স্থানীয় লোকজন নিজেদের প্রয়োজনে রেললাইনের ওপর দিয়ে অনেক অবৈধ চলাচলের পথ তৈরি করেছেন। এসব পথে অসতর্কভাবে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রেললাইনে চলাচলের সময় মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। সচেতনতার অভাবেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটে।

তবে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। ঝুঁকিপূর্ণ লেভেল ক্রসিংগুলো চিহ্নিত করে সেখানে গেটম্যান নিয়োগ, কার্যকর ব্যারিয়ার স্থাপন, সতর্কসংকেত চালু এবং নিরাপদ বিকল্প পারাপারের ব্যবস্থা করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সুজন কান্তি দে জানান, রেলপথে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি রোধে পুলিশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনের গতি ও যাত্রীসংখ্যা বাড়লেও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি দূর না হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যাবে। তাই নতুন রেলপথের সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যাত্রী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠছে।


মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।