চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম বিভাগ থেকে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি লিমিটেডের (বিএমটিএফ) অনুকূলে ১১টি লটের নিলামকৃত পণ্য খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নির্ধারিত অর্থ, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও আগাম আয়কর পরিশোধের তথ্য যাচাই শেষে সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর ডেলিভারি অর্ডার জারি করা হয়।
কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রামের রেভিনিউ অফিসার অব কাস্টমস পীযূষ কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত আদেশে পণ্য হস্তান্তরের অনুমতি দেওয়া হয়। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জারি করা এ আদেশে নিলামসংক্রান্ত বিধিবিধান ও পণ্যভেদে নির্ধারিত শর্ত প্রতিপালনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, ১১টি লটের বিপরীতে সংরক্ষিত মূল্যের ৬০ শতাংশ হিসেবে দুই কোটি ৮১ লাখ ২৪ হাজার ২১১ টাকা ৭০ পয়সা জমা দেওয়া হয়েছে। ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের গাজীপুর সেনানিবাস শাখার মাধ্যমে পে-অর্ডারে এ অর্থ পরিশোধ করা হয়।
এ ছাড়া ভ্যাট বাবদ ৪২ লাখ ১৮ হাজার ৬৩১ টাকা ৭৬ পয়সা এবং আগাম আয়কর বাবদ ২৮ লাখ ১২ হাজার ৪২১ টাকা ১৭ পয়সা জমা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে তিন খাতে পরিশোধ করা হয়েছে তিন কোটি ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ২৬৪ টাকা ৬৩ পয়সা।
নিলামে বিক্রি হওয়া ১১টি লটের পণ্যের তালিকায় রয়েছে প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ, মিথানল, ডুপ্লেক্স বোর্ড, জেডএফ মেরিন গিয়ারবক্স, স্টেনটার মেশিন ও এর আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম, আর্ট পেপার, গ্র্যানাইট টাইলস, মারলেক্স হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), অপরিশোধিত গ্র্যানাইট ব্লক এবং খালি কনটেইনার।
তবে পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে রয়েছে নির্দিষ্ট শর্ত। প্লাস্টিক স্ক্র্যাপ আমদানি নীতির প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী শিল্পের কাঁচামালের প্রকৃত ব্যবহারকারী ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি-ধারীর অনুকূলে খালাস করতে হবে। অন্যদিকে, মিথানল খালাসের জন্য বিস্ফোরক অধিদপ্তর ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনাপত্তিপত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যান্য পণ্যের ক্ষেত্রেও আদেশে উল্লেখিত শর্ত এবং নিলামসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করতে হবে।
কাস্টমস হাউসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ডেলিভারি অর্ডার জারির পর তিন কার্যদিবসের মধ্যে পণ্য খালাস নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খালাস সম্পন্ন না হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নিলামসংক্রান্ত স্থায়ী আদেশ ও চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, নিলাম কমিটির গত ৮ সেপ্টেম্বরের সভার সুপারিশের ভিত্তিতে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট লটগুলোর বিক্রয়াদেশ জারি করা হয়। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত অর্থ ও কর পরিশোধের তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন শেষে পণ্য খালাসের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে রেভিনিউ অফিসার অব কাস্টমস পীযূষ কুমার বিশ্বাস বলেন, নিলামসংক্রান্ত বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্ধারিত অর্থ, ভ্যাট ও আগাম আয়কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এরপর যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ডেলিভারি অর্ডার জারি করা হয়েছে। পণ্য খালাসের সময় আমদানি নীতি, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনাপত্তিপত্র এবং অন্যান্য প্রযোজ্য শর্ত অবশ্যই পরিপালন করতে হবে।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।