চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন পড়ে থাকা নিম্নমানের, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংসের কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস। এসব কনটেইনারে থাকা পণ্যের মোট পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ২২৬ টন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বন্দর রিপাবলিক ক্লাবের পেছনে নির্ধারিত স্থানে বড় গর্ত করে পণ্যগুলো ধ্বংসের কাজ শুরু হয়। প্রথম দিন ১০ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সরকারি বিধিবিধান ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর এসব পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।
ধ্বংসের তালিকায় রয়েছে ৩৪ কনটেইনারে প্রায় ৯৩৫ টন খেজুর এবং ৪০ কনটেইনারে থাকা প্রায় ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশ। এছাড়া ১৮ কনটেইনার মেয়াদোত্তীর্ণ ফিড গ্রেড লাইমস্টোন, আট কনটেইনার বেনটোনাইট পাউডার, পচা কমলা, নষ্ট পেঁয়াজ, নষ্ট নারিকেল ও বিভিন্ন ধরনের ফুড স্টাফসহ অন্যান্য পণ্য রয়েছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, জাহাজ থেকে বন্দরের ইয়ার্ডে নামানোর পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আমদানিকারককে পণ্য খালাস নিতে হয়। নির্ধারিত সময়ে পণ্য না নিলে আমদানিকারককে নোটিশ দেওয়া হয়। এরপরও পণ্য খালাস না হলে তা নিলামে তোলার বিধান রয়েছে। নিলামে বিক্রি না হওয়া কিংবা এরই মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পণ্য ধ্বংস করা হয়।
এ ধরনের পণ্য শনাক্ত ও ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কাজ করে। দীর্ঘদিন বন্দরে পড়ে থাকা কনটেইনারের কারণে একদিকে বন্দরের জায়গা ব্যবহারের সমস্যা তৈরি হয়, অন্যদিকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনার হলে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু রাখার অতিরিক্ত ব্যয়ও বহন করতে হয়।
এর আগে গত ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরের কাস্টমস অকশন শেডে রোলার দিয়ে গুঁড়িয়ে পাঁচ কনটেইনারে থাকা ‘রয়েল টাইগার’ এনার্জি ড্রিংক ও বিভিন্ন পারসোনাল কেয়ার পণ্য ধ্বংস করা হয়েছিল।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংস কার্যক্রম শেষ হলে খালি কনটেইনারগুলো সংশ্লিষ্ট শিপিং এজেন্টদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে।
আরএইচ/দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।