দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রাম বন্দরে ৮.২৫ টন তামাকসদৃশ পণ্য ও ৯.২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার জব্দ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৫:৪৮ সকাল
পঠিত : ২২
চট্টগ্রাম বন্দরে ৮.২৫ টন তামাকসদৃশ পণ্য ও ৯.২৬ টন স্ক্র্যাপ পেপার জব্দ

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বন্দরে অন্য প্রতিষ্ঠানের নাম ও তথ্য ব্যবহার করে আমদানির অভিযোগে একটি সন্দেহজনক চালান জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। চালানটির কায়িক পরীক্ষায় প্রায় ৮ দশমিক ২৫ টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী, মাদকসদৃশ সন্দেহজনক পাউডারজাত পদার্থ এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ টন ঘোষণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া গেছে।

সোমবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

এনবিআর জানায়, চট্টগ্রাম বন্দরে থাকা ডিএফএসইউ৬৭৫৩৮৪৯ নম্বর কনটেইনারের দুটি বিল অব লেডিং পরীক্ষা করে এসব পণ্যের সন্ধান পাওয়া যায়। নথিতে আমদানিকারক হিসেবে অথয় এন্টারপ্রাইজের নাম উল্লেখ থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তিনি বা তার প্রতিষ্ঠান এ আমদানির বিষয়ে অবগত নন। চালানটির সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততাও নেই বলে তিনি দাবি করেছেন।

তার আশঙ্কা, কোনো অসাধু চক্র প্রতিষ্ঠানের নাম ও আমদানি-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে চালানটি দেশে এনেছে।

কাস্টমস নথি অনুযায়ী, মেনিফেস্ট নম্বর ৪৫২৪/২০২৬ এবং ভয়েজ নম্বর ০১১-এর আওতায় ‘এমভি উদ্দীপন এক্সপ্রেস’ জাহাজে কলকাতা থেকে চালানটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। জাহাজটি ২০ সেপ্টেম্বর কলকাতা থেকে যাত্রা করে এবং ২২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

একই মাস্টার বিল অব লেডিং নম্বর ৩০১১৭৪৩৪৭-এর অধীনে দুটি হাউস বিল অব লেডিংয়ের মাধ্যমে পণ্যগুলো আমদানি দেখানো হয়।

প্রথম হাউস বিল অব লেডিংয়ে পণ্যের ঘোষণা ছিল ‘পান মসলা ও জর্দা (চিবানোর তামাকজাত পণ্য)’। এতে ৪৭৩ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ৯৭৪ কেজি পণ্য থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে ২৭ সেপ্টেম্বর কায়িক পরীক্ষায় ৪৭০ প্যাকেজে মোট ৮ হাজার ২৫০ দশমিক ৪ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ সামগ্রী পাওয়া যায়।

এর মধ্যে গাঢ় বাদামি রঙের ৪২১ প্যাকেজে ৭ হাজার ৩২৫ দশমিক ৪ কেজি, বাদামি রঙের ৩১ প্যাকেজে ৫২৭ কেজি, ধূসর রঙের ১৩ প্যাকেজে ২৭৩ কেজি এবং সাদা রঙের পাঁচ প্যাকেজে ১২৫ কেজি সামগ্রী ছিল।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে বিভিন্ন রঙের পাউডারজাত পদার্থও রয়েছে। বাহ্যিকভাবে এসব পদার্থ মাদকদ্রব্যের মতো সন্দেহজনক মনে হয়েছে। তবে এতে কোনো মাদক বা নিষিদ্ধ উপাদান রয়েছে কি না, তা রাসায়নিক ও পরীক্ষাগার পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় হাউস বিল অব লেডিংয়ে পণ্যের ঘোষণা ছিল ‘মুদ্রিত কাগজের ক্যাটালগ’। এতে ১ হাজার ৫৭০ প্যাকেজের ওজন ৯ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৬০ কেজি উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় একই সংখ্যক প্যাকেজে ৯ হাজার ২৬৩ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন সন্দেহজনক স্ক্র্যাপ পেপার পাওয়া যায়।

এনবিআর জানিয়েছে, দুটি বিল অব লেডিং মিলিয়ে কায়িক পরীক্ষায় মোট ২ হাজার ৪০ প্যাকেজে ১৭ হাজার ৫১৩ দশমিক ৪ কেজি, অর্থাৎ প্রায় ১৭ দশমিক ৫১ মেট্রিক টন পণ্য পাওয়া গেছে।

এর মধ্যে প্রায় ৮ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন তামাক বা তামাকসদৃশ ও সন্দেহজনক পাউডারজাত সামগ্রী এবং প্রায় ৯ দশমিক ২৬ মেট্রিক টন স্ক্র্যাপ পেপার রয়েছে।

চালানটির বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। পরীক্ষাগার পরীক্ষার ফলাফল এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পণ্যের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।

একই সঙ্গে তদন্তের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

আর / দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।