দক্ষিণ পূর্ব

চবিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ

sathi
প্রকাশ : ২০ নভেম্বর ২০২৫
পঠিত :
চবিতে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর মাথা ফাটানোর অভিযোগ

চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০-২১ সেশনের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী আহত শিক্ষার্থী হলেন মোহাম্মদ আলমাস। তিনি চারুকলা ইনস্টিটিউটের ২০২০-২১ সেশনের শিক্ষার্থী।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন রাহমানিয়া হোটেলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

এ সময় ইট দিয়ে ভুক্তভোগীর মাথা থেতলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীরা শাখা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশীদ মামুনের অনুসারী বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। ঘটনায় জড়িত ছিলেন শাখা ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ফাহিম, তিনি চারুকলা ইন্সটিটিউটের ২০১৭-১৮ সেশনের শিক্ষার্থী। আরও ছিলেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাদিউল আউয়াল সুজাত, তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চাকসু নির্বাচনে সোহরাওয়ার্দী হল সংসদের ভিপি পদপ্রার্থী ছিলেন। হামলায় জড়িত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ মো. রিদওয়ান ও ছাত্রদল নেতা আরিফসহ আরও কয়েকজন।

চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট এলাকায় চারুকলা বিভাগের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়ে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী আলমাসের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। পরে অভিযুক্তরা আলমাসকে ইট, কাঠ ও কলা গাছের কাঁধি দিয়ে উপর্যুপরি মেরে আহত করে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাদিউল আউয়াল সুজাত ইট দিয়ে তার মাথা থেতলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তার ইটের আঘাতে ওই ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।

আহত শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলমাস বলেন, “চারুকলার কিছু লেখালেখি পারমিশন ছাড়া হয়েছিল, পরে সেগুলো মুছে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে আমি গ্রুপে কথা বললে তারা তা ভালোভাবে নেয়নি। এর জেরেই আজ আমাকে টার্গেট করে হামলা করেছে। আগেও তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগে নিউজ করিয়েছিল। আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই, ফাহিম ছাত্রদলের বাকিদের সাথে সম্পর্ক থাকায় রাজনীতিকে এখানে অন্তভুক্ত করেছে। আমাকে ইট দিয়ে আহত করেছে ছাত্রদলের সুজাত।”

চবি মেডিক্যাল সেন্টারে কর্তব্যরত সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, একজন শিক্ষার্থীকে মেডিক্যালে আনা হয়েছে। তার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন, প্রায় তিন ইঞ্চি পরিমাণ। তাকে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জমাদিউল আউয়াল সুজাতের সাথে যোগাযোগ করতে বারবার চেষ্টা করেও উনাকে মুঠোফোনে পাওয়া যায় নি।

জানতে চাইলে এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইদ মো. রিদওয়ান গণমাধ্যমকে বলেন, চারুকলায় ইনস্টিটিউটের কিছু অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলমাসের সঙ্গে তার বিভাগের সিনিয়রদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে মারধর শুরু হয়। আমি শেষ পর্যায়ে গিয়ে সেখানে উপস্থিত হই।

জানতে চাইলে ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ ফাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, “আলমাসের নামে পূর্বে অনেক অভিযোগ রয়েছে, ওর অভিযোগের বিষয়ে একটি তদন্ত চলছে। আলমাস ২০১৯-২০ এক সিনিয়রকে নিষেধ করেছিল যাতে তদন্তে ওর বিপক্ষে কোন কথা না বলে। গতকাল ওই সিনিয়রকে পেয়ে স্টেশনে এইসব বিষয়ে তর্কাতর্কি করে। পরে দুই নম্বর গেটে সিনিয়র এসব বিষয়ে আবার জিজ্ঞাসাবাদ করলে ও মারধর শুরু করে। পরবর্তীতে আমরা অবস্থানকারী যারা ছিলাম তারা ওর ব্যবহার দেখে ওকে গণপিটুনি দেই। ওর ব্যাপারে ডিপার্টমেন্ট এসব বিষয় আমরা অভিযোগ দিয়েছিলাম নানা অভিযোগ রয়েছে তার নামে।

এ বিষয়ে চবির সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ কানন বলেন, মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ২ নম্বর গেইট এলাকায় চারুকলার অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী অন্য আরেকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করে বলে আমরা জেনেছি। তবে কোন পক্ষই আমাদেরকে এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দেয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা এই বিষয়ের ব্যবস্থা নিবো।

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।