চবি প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের দ্রুত পদত্যাগের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রদল। অন্যদিকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে চাকসু নির্বাচন বানচালের অভিযোগ তুলে ঝটিকা মিছিল করে চাকসু ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার চাকসু ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে ছাত্রশিবির। এদিকে প্রশাসনিক ভবনের সামনে দুপুর ১২টায় অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শাখা ছাত্রদল।
এসময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ ও রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি জানায়।
এসময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা “দলবাজ রেজিস্ট্রার, এই মুহূর্তে গদি ছাড়”, “চাপ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবেনা”, “হানি ট্র্যাপের প্রক্টর মানি না, মানবো না” ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকে।
ছাত্রদল নেতাদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বিভিন্ন সময়ে একটি দলের প্রোগ্রামাদিতে উপস্থিত থাকেন এবং তিনি চাকসু নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। ফলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা নিয়ে তারা শঙ্কায় আছেন। ছাত্রদল নেতারা আরো অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার তাদেরকে কটূক্তি করেছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলেছেন। ছাত্রদল দাবি জানায়, দলবাজ ও ব্যক্তিত্বহীন চবি প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করতে হবে।
অন্যদিকে ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষপাতীত্বের বিষয়টা একটি অবান্তর অভিযোগ। আসলে তারা বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের সামনে আনছে যাতে চাকসু বানচাল করতে পারে এবং তারা অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারার কারণে তাদের (প্রক্টর- রেজিস্ট্রার) পদত্যাগের দাবি তুলছে। যারা বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী শিক্ষক আছেন তারাও তো তাদের বিভিন্ন প্রোগ্রামে যায়, তারা তো প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় আছে, সেক্ষেত্রে তাদের সমস্যা হচ্ছে না কোনো?
এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের পদত্যাগ, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট সমাধান এবং চাকসুর গঠনতন্ত্র পরিবর্তনে দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার দাবিতে আমাদের আজকের এই কর্মসূচি।
চবি ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, ছাত্রদল সম্পর্কে রেজিস্ট্রারের অশালীন বক্তব্য আমরা মেনে নিতে পারছি না। রেজিস্ট্রার আইনি ব্যবস্থা নেবেন কিন্তু তিনি কাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন? চাকসুর কমিটি রেজিস্ট্রারের সাইনেই হয়েছে আমরা এর প্রতিবাদ করতেই পারি। সে জায়গা থেকে এই ধরনের অশালীন মন্তব্য করায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।
ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক মো. ঈসহাক ভূঁঞা বলেন, "প্রশাসন আমাদের দীর্ঘ কর্মসূচির পর চাকসুর তফসিল ঘোষণার তারিখ দিয়েছে। কিন্তু একটি ছাত্র সংগঠন চাকসুকে নষ্ট এবং নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র আমরা মেনে নেব না। আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত সময়ের মধ্যে চাকসুর তারিখ ঘোষণা করবে এবং সুন্দরভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে।"
ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ পারভেজ বলেন, আমরা গত দুইদিন থেকে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন বিষয় দেখে আজকে এই ঝটিকা মিছিল করেছি। আমরা দেখেছি একটি দল বিভিন্ন অযৌক্তিক ইস্যু টেনে চাকসু বানচালের চেষ্টা করছে। চাকসু বানচালের পাঁয়তারা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না।
চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি চাকসু নির্বাচন সংক্রান্ত কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই। আমাকে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আমি তা গ্রহণ করিনি। পরবর্তীতে ছাত্রদলের একটি স্মারকলিপিতে দেখলাম, সেখানে রেজিস্ট্রারকে অব্যাহতির দাবি তোলা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা যদি সত্যিই শিক্ষার্থী হয়ে থাকে, তবে চাকসু সম্পর্কিত বিষয়গুলো তাদের জানা থাকারই কথা। এমন মন্তব্য সাংবাদিককে বলেছিলাম, অথচ সেই মন্তব্যকে কেন্দ্র করেই তারা আমার পদত্যাগ দাবি করছে যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
রহা
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।