শামীম ভূইয়া , চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবি নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
বৃহস্পতিবার ( ৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে কাটা পাহাড় সড়ক দিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
ইনকিলাব মঞ্চ ঘোষিত তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে ওসমান হাদি হত্যার বিচার, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং শাপলা, পিলখানা ও জুলাই গণহত্যার বিচার।
বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের ‘বিচার বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘ওসমান হাদি, বাংলাদেশের আজাদী’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘গণভোটের গণরায়, মেনে নিতে কিসের ভয়?’, ‘মজিদবাদ মুজিববাদ, মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ’, ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’ সহ বেশ কিছু স্লোগান দিতে দেখা যায়।
মিছিল পরবর্তী সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, “ওসমান হাদি নিজের শত্রুতার কারণে শহীদ হননি। তাঁর সঙ্গে কারও জমি নিয়ে বিরোধ ছিল না, ব্যক্তিগত কোনো মামলাও ছিল না। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে কথা বলে শহীদ হয়েছেন। তাঁর হত্যার বিচার করা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ওপর ফরজ।”
তিনি আরও বলেন, “এই বিচারের মাধ্যমে ওসমান হাদি কিছুই পাবেন না, কিন্তু বাংলাদেশ একটি ইনসাফের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তাঁর সঙ্গে হওয়া জুলুমের বিচার পাবেন। আমরা চাই, বাংলাদেশের একজন কৃষক, ভ্যানচালক, রিকশাচালক, শ্রমিক তিনি যে-ই হোন না কেন, তাঁর সঙ্গে ঘটা জুলুমের বিচার তিনি বাংলাদেশের নাগরিক হওয়ার সুবাদে পাবেন। সেখানে কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রভাব মুখ্য বিষয় হবে না।”
বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভারতে আটক ওসমান হাদির দুই হত্যাকারীকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে আগামী ১৮ ডিসেম্বর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
সমাবেশের পর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক মজমার আয়োজন করা হয়। এতে কাওয়ালি, গান, নজরুলগীতি ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করা হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
প্রসঙ্গত, ইনকিলাব মঞ্চের ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি গত ৬ অক্টোবর বাংলাবান্ধা থেকে শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালনের পর এটি টেকনাফে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।