দক্ষিণ পূর্ব

চবি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সি. সহ-সভাপতি আজীবন বহিষ্কার

RAFIQ HYDER
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
চবি ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সি. সহ-সভাপতি আজীবন বহিষ্কার
চবি প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের আগ মূহুর্তে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের কারণে শাখা ছাত্রদলের সিনি: সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মামুন উর রশিদ মামুনকে সাংগঠনিক পদ থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। তবে বহিষ্কারের নেপথ্যে রয়েছে চাকসু নির্বাচন ঘিরে চবি শাখা ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্যানেল দাঁড় করানো।

রবিবার (১২ অক্টোবর) রাতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়। 

ছাত্রদল সূত্রে জানা যায়, চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেলে  মামুনের অনুসারী ছেলেদের তেমন কাউকে রাখা হয় নি। সিনিয়র সহ-সভাপতি হওয়ার পরেও এমন অবজ্ঞা মামুন ও তার অনুসারীরা মেনে নেয়নি। তাই কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সার্বজনীন ছাত্র ঐক্য পরিষদ নামে স্বতন্ত্র প্যানেল দাঁড় করায় মামুন। সেই প্যানেলে ভিপি, জিএস, এজিএস সহ ৭ পদে ছাত্রদলের কর্মীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

 বিদ্রোহী প্যানেল রুখতে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। এরপর ভিপি প্রার্থী সাইদ রেদোয়ান ও দপ্তর সম্পাদক সাখাওয়াত হোসাইন কিছুদিন পূর্বে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করেন। তবে অন্য প্রার্থীরা নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত অনড় থাকে। এর জন্য মামুন কে দায়ী করে ছাত্রদলের অন্যান্য গ্রুপ। তাই শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণ দেখিয়ে মামুন কে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়।

মামুনের বহিষ্কার মেনে নিতে পারছে না ছাত্রদলের অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল কর্মী বলেন,  ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে জেল-জুলুম, রিমান্ড সহ্য করে ছাত্রদল করেছেন মামুন । আগেও তাকে দলীয় পদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অবজ্ঞা করা হয়েছে। চাকসুতেও তার ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। তাই কিছু কর্মী স্বতন্ত্র পদে নির্বাচন করছে। নির্বাচনে প্রতিযোগিতা করা প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার। এই অধিকার চর্চার জন্য দুর্দিনের কর্মীকে বহিষ্কার করবে মেনে নেওয়া যায় না।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মামুনুর রশীদ মামুন বলেন, আমি দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে লড়াই সংগ্রামের মধ্যে ছিলাম। দুঃসময়ে ছাত্রদলের নেতৃত্ব দিয়েছি। আমি কি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছি সেটা আমি বলতে পারব না। সেটা কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বলতে পারবে।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের (১১ আগস্ট) বিকেলে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ ইকবাল খান এবং সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে চবি শাখা ছাত্রদলের ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করেন। এতে মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মহসিন সভাপতি ও আব্দুল্লাহ আল নোমান সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মামুনুর রশিদ মামুন, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিন ও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে মো. সাজ্জাদ হোসেন হৃদয়ের নাম ঘোষণা করা হয়।

রহা

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।