দক্ষিণ পূর্ব

মেয়েদের রক্ষা করায় আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে হামলা করা হয়: আহত শিক্ষার্থী রোমান

mainulislam
প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৫
পঠিত :
মেয়েদের রক্ষা করায় আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে হামলা করা হয়: আহত শিক্ষার্থী রোমান
নিজস্ব প্রতিবেদক:

জোবরা গ্রামের ভেতরে একটি রাস্তায় কয়েকজন মেয়েকে অমানবিকভাবে মারতে দেখে আমরা ছেলেরা সেখানে গিয়ে মেয়েদের রক্ষা করি। এরপর তাদেরকে একটি নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠিয়ে দিয়ে আমরা ফিরছিলাম। হঠাৎ করে ক্ষুব্ধ হয়ে একদল সন্ত্রাসী আমাদের ঘিরে ফেলে। প্রথমে আমরা তাদের ধাওয়া খেয়ে বিভিন্ন অলিগলিতে আশ্রয় নিই। ভেবেছি এই যাত্রায় হয়তো বেঁচে গেছি। কিন্তু বিভিন্ন বাড়ি থেকে দা, কিরিচ, হকস্টিক, লাঠি, লোহার রড় হাতে বের হয়ে তারা আমাদের ঘিরে ফেলে। এরপর আমাদেরকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়েছে। দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে, পাথর মেরে থেতলে দেওয়া হয়েছে। লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীর রক্তাক্ত করা হয়েছে। সেখানে আমরা আহত অবস্থায় কাদামাটিতে কাতরাচ্ছিলাম। হাউমাউ করে কাঁদছিলাম শুধু। কেউ আমাদের দিকে ফিরে তাকাচ্ছে না। আশেপাশে কোন পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে দেখিনি। ঘন্টার পর ঘন্টা সংঘর্ষ চললেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসেনি। 

রোববার (৩১ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বেডে শুয়ে কথাগুলো বলছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ স্টাডিজ বিভাগের গুরুতর আহত শিক্ষার্থী রোমান রহমান। তিনি কান্নাজনিত কণ্ঠে বলেন, জীবনে এমন বিভৎস হামলা দেখিনি। মনে হচ্ছিল আর বাঁচব না। আজকে তারা আমাদের মেরেই ফেলবে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা বেঁচে ফিরি। তিনি বলেন, আমার সহপাঠীদের সাথে কি হয়েছে তা এখনও আমি জানিনা। আমরা যে কয়েকজন গিয়েছি মেয়েদের উদ্ধার করতে তাদেরকে আমি দেখতে পাচ্ছি না। হামলায় বহিরাগতরা অংশ নিয়েছেন এটা আমরা অনেকটাই নিশ্চিত। তাদের কাউকে কোনদিন চবি এলাকায় দেখিনি। তারা বারবার বলছিল চবির আগের প্রশাসন অনেক ভালো ছিল। বর্তমান প্রশাসন ভালো নেই। অথচ স্থানীয়রা এটি বলার কথা নয়। প্রশাসন ভালো খারাপ হওয়ার সাথে তাদের কি সম্পর্ক। আর স্থানীয়রা এভাবে কোনদিন শিক্ষার্থীদের মারেনি এর আগে। তারা এভাবে মারতে পারে না। 

আহত শিক্ষার্থী বর্তমানে চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। তার হাতে, মাথায় ও পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। পুরো শরীরে কাদামাটি লেগে ছিল। অপারেশনের স্বার্থে চিকিৎসকরা তার জামা কেটে ফেলেছেন। কাদা মিশ্রিত শরীর নিয়ে হাসপাতালের বেডে ব্যাথায় কাতরাচ্ছেন তিনি। 

শুধু রোমান নয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে একটি অনলাইন পত্রিকার সাংবাদিক মিরাজ হোসেন জানান, 
আমি বারবার বলেছি আমি একজন সাংবাদিক, আমি সংবাদ সংগ্রহ করতে এসেছি। কিন্তু তারা কিছুই শুনেননি। আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়েছে। তাদের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি দেখে মনে হলো, বহু বছরের পুরোনো শত্রুতা ছিল। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় নতুন কোন বিশ্ববিদ্যালয় নয় যে স্থানীয়রা সেটি মেনে নিতে পারছেন না৷ যুগ যুগ ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। এ হামলার পিছনে কারো ইন্ধন রয়েছে। 

জানা যায়, রোববার সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম কলেজ হাসপাতালে ৭৮ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসা নিয়েছেন। আর নগরের বেসরকারি পার্ক বিও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৬ জন৷  এছাড়া ন্যাশনাল হসপিটালে ৯ জন ও হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১০ জন ভর্তি আছেন। এর মধ্যে ন্যাশনাল হাসপাতালে একজন ও পার্কভিউ হাসপাতাল একজনকে নীবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে আহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। 

এম

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।