দক্ষিণ পূর্ব

চাকসুর জন্য কেনা হয়নি চেয়ার-টেবিল, ৩২ বছরের জমা টাকা কোথায়?

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৫
পঠিত :
চাকসুর জন্য কেনা হয়নি চেয়ার-টেবিল, ৩২ বছরের জমা টাকা কোথায়?
মাসুদ আলম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন আর ক'দিন পরেই। নির্বাচিত হলেই কার্যকারিতা শুরু হবে সংসদের। শিক্ষার্থীদের নানান সমস্যা-সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করবেন তারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো হল সংসদ কার্যালয়েই নেই আসবাবপত্র। 

এমনকি কোনো কোনো হলে নেই সংসদ কার্যালয়ও। নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত প্রশাসন সময় থাকতে এই বিষয়টির দিকে নজরই দেয়নি। এখন তড়িঘড়ি করে প্রভোস্টদের এই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। 

তবে বাজেট অপ্রতুলতার 'দোহাই' দিয়ে একটি হল সংসদের জন্য একটি মাত্র টেবিল কেনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে প্রশাসন। অথচ ৩২ বছর ধরে কয়েক কোটি টাকা চাকসু ও হল সংসদের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, আগামী ১৬ অক্টোবর চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিনক্ষণ নির্ধারিত আছে। কিন্তু হল সংসদগুলো সংস্কার করা হয়নি। কোনো কোনো হলে হল সংসদের অস্তিত্ব নেই। বিশেষ করে নতুন নির্মিত অতীশ দীপঙ্কর হল, নবাব ফয়জুন্নেছা হলে অফিসিয়াল কক্ষ সংকট রয়েছে। কোনো হলেই হল সংসদ স্থাপনের জন্য কেনা হয়নি কিছুই।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ৩২ বছর ধরে হল সংসদের নামে কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। এসব টাকা দিয়ে প্রত্যেক হল সংসদের জন্য প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, স্টেশনারি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি, অনার বোর্ড, নেমপ্লেটসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনা সম্ভব। ১৫টি হল সংসদের ভিপি, জিএস, এজিএস ও কোষাধ্যক্ষের জন্য অফিসিয়াল চেয়ার, টেবিল ও ভিজিটর চেয়ার প্রয়োজন। এছাড়া কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ কার্যালয়ের জন্যও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র এখনো কেনা হয়নি।

একাধিক হল সংসদের বিভিন্ন পদের প্রার্থীদের অভিযোগ, চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য চারটি টেবিল, চারটি চেয়ার ও সংসদের পদধারীদের জন্য উপযোগী চেয়ার প্রয়োজন। ফাইল ও নথিপত্র রাখার জন্য প্রয়োজন আলমিরা ও কেবিনেট। কোটি কোটি টাকা চাকসু ও হল সংসদের নামে গত ৩২ বছরে আদায় করেছে প্রশাসন। এই টাকায় প্রত্যেক পদধারীর জন্য মানসম্মত আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা সম্ভব। আমরা বিজয়ী হলে ৩২ বছর ধরে চাকসু ও হল সংসদের নামে আদায় করা টাকাগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার করবো। এই টাকার বড় অংশ শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই যেন ব্যয় সে বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করবো।

এ বিষয়ে মতামত জানতে
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) প্রফেসর ড. কামাল উদ্দিনকে মুঠোফোনে কল করাও হলে সংযোগ স্থাপন সম্ভব হয়নি।

এমএফও/এসএস 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।