দক্ষিণ পূর্ব

চাকসু নির্বাহী সদস্য আকাশ দাশকে শপথ গ্রহণ করানোর প্রতিবাদে চবি ছাত্রদলের মিছিল

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৫:১১ বিকাল
পঠিত : ২৮
চাকসু নির্বাহী সদস্য আকাশ দাশকে শপথ গ্রহণ করানোর প্রতিবাদে চবি ছাত্রদলের মিছিল

ছবি ছাত্রদলের মিছিল

চবি প্রতিনিধি 

চাকসু নির্বাহী সদস্য আকাশ দাশকে শপথ গ্রহণ করানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯ টায় ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের মোড় ঘুরে আবার জিরো পয়েন্টে এসে মিছিল শেষ হয়।এ সময় বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন তারা। লুঙ্গির নিচে ছিলো বীর ইসলামী ছাত্রশিবির , আকাশ দাশের সমর্থক যারা একাত্তের ধর্ষক তারা, জিয়ার সৈনিক এক হও লড়াই করো ইত্যাদি।

বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে চবি ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, চাকসুর প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতির নামে চবি শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করেছে। কিন্তু চবি শিক্ষার্থীদের মৌলিক সমস্যা তারা সমাধান করতে পারেনি। তারা তাদের মাদার পার্টিকে সার্ভ করেছে। এ চাকসুর মাধ্যমে আমরা পেয়েছি ধর্ষেকের সাফাইকারী। চাকসুর প্রতিনিধি হিসেবে তাকে শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় দাড় করানোর কথা ছিলো। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, এ চাকসু শিক্ষার্থীদের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বড় অপরাধ করেছে৷ তাদের অবিলম্বে শিক্ষার্থীদের কাঠগড়ায় দাড় করাতে হবে। 

চবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, চাকসুর মেয়াদ আছে আর ১৭ দিন। কেন এবং কোন কারণে ধর্ষণের পক্ষে থাকা সদস্যকে শপথ করানো হয়েছে তা শিক্ষার্থীরা জানতে চায়। 

চাকসু ভিপি ১০ ভরি স্বর্ণ দিয়ে ৩ স্টার হোটেলে কিভাবে বিয়ে করে। এর টাকার উৎস কী তা আমরা জানতে চাই। তারা নবীনবরণ করে ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে। এর টাকার উৎস সম্পর্কেও আমরা জানতে চাই। আমরা হুশিয়ারি উচ্চারণ করতে চাই, প্রতিটি হলে দখল করে, চবিকে ক্যান্টনমেন্ট বানানো হলে ছাত্রদল সর্বদা প্রতিবাদ করবে। 

এছাড়াও তিনি বলেন, আমরা জানি ধর্ষণ করা জামায়াত-শিবিরের ঐতিহ্য। তারা একাত্তরে আমাদের মা-বোনদের ধর্ষণ করেছে।

চবি ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, আমরা দেখেছি কাবিননামা দেয়ার পরেও একটি নারীকে ঝুলে থাকতে। যারা আজ আকাশ দাশকে শপথের পক্ষ নিয়েছে তারা চাকসু ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে। তারা এক্ষেত্রে আইনের কথা বলে। তারা যদি আইন মেনে কাজ করতো, তাহলে ন্যুনতম একটি হলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন আমরা দেখতে পেতাম। চাকসুর মেয়াদ খুবই সন্নিকটে। তারা যে প্রক্রিয়ায় চাকসু নিয়ন্ত্রণ করে আসছে, ভবিষ্যতে চাকসুকে শিক্ষার্থীরা ঘৃণাভরে দেখবে। 

তিনি আরও বলেন, গতকাল আমার এক সহকর্মীকে নিয়ে ফাও খাবারের নিউজ হয়েছে। অথচ আমরা সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম শুভঙ্করের ফাঁকি। 

উল্লেখ্য, চাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৭ দিন আগে চাকসুর নির্বাহী সদস্য আকাশ দাশকে আজ (৬ অক্টোবর) শপথ গ্রহণ করানো হয়। গতবছরের ২৪ অক্টোবর চাকসুর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের একদিন আগে ধ র্ষ ণ নিয়ে এক বিতর্কিত পোস্ট করার পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তার শপথ আটকে যায়। পরে ওই বিতর্কিত মন্তবের পর তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

আর/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।