একসময় চিঠি আদান-প্রদানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল ডাকঘর। সময়ের পরিবর্তনে মুঠোফোন ও ডিজিটাল যোগাযোগের বিস্তারে চিঠির ব্যবহার কমেছে। তবে সরকারি নথি, আদালতের নোটিশ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পৌঁছে দিতে এখনো ভূমিকা রাখছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের তৈলার দ্বীপ ডাকঘর। জরাজীর্ণ মাটির ঘরে বসেই এই দায়িত্ব পালন করছেন পোস্টমাস্টার মো. আমির হোসেন।
ডাকঘরটির বাইরে দেয়ালে ঝুলছে একটি চিঠির বাক্স। প্রতিদিন বেলা ১১টার দিকে নিয়ম অনুযায়ী বাক্সটি খোলা হয়। কিন্তু সেখানে পাঠানোর জন্য খুব একটা চিঠি পাওয়া যায় না। অথচ ডাকঘরের ভেতরে এখনো রয়েছে চিঠি মাপার পাল্লা, লোহার সিল, আঠা ও গালাসহ ডাক বিভাগের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।
পোস্টমাস্টার আমির হোসেন জানান, বর্তমানে ডাকঘরে বাইরে পাঠানোর তুলনায় আসা চিঠির সংখ্যা বেশি। আদালতের নোটিশ, তালাকনামা ও সরকারি চাকরিসংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়মিত আসে। সপ্তাহে পাঁচ দিন আশপাশের পাঁচ থেকে ছয় কিলোমিটার এলাকার মানুষের কাছে চিঠিপত্র পৌঁছে দেওয়া হয়।
ডাকঘরের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর মাসে ৩২৪টি চিঠি ও নথিপত্র গ্রহণ করে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০৩টি ছিল রেজিস্ট্রি চিঠি। চিঠি বিতরণের কাজে সহযোগিতা করেন পিয়ন মিজানুর রহমান ও রানার আলী আকবর।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, একসময় এ ডাকঘর ছিল চিঠিপত্র পাঠানো ও গ্রহণের অন্যতম মাধ্যম। মুঠোফোনের ব্যবহার বাড়ায় চিঠির আদান-প্রদান কমে গেছে। তবে ডাকঘরের প্রয়োজন এখনো রয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, ডাকঘর হিসেবে ব্যবহৃত মাটির ঘরটি একসময় সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের পরিবারের কাছারিঘর ছিল। সেখানে শিশুদের আরবি শিক্ষার জন্য মক্তবও পরিচালিত হতো। বর্তমানে ঘরটির তিনটি কক্ষ তালাবদ্ধ। অন্য একটি কক্ষে চলছে ডাকঘরের কার্যক্রম। পাশের মসজিদে এখন শিশুদের আরবি শেখানো হয়।
ডাকঘরটিকে আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও অবকাঠামোগত সংকটে তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৭ সালে দেশের ৫ হাজার ৫০৬টি ডাকঘরের সঙ্গে তৈলার দ্বীপ ডাকঘরকেও পোস্ট ই-সেন্টার বা ডিজিটাল ডাকঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু নিজস্ব পাকা ভবন না থাকায় সেখানে তথ্যপ্রযুক্তির যন্ত্রপাতি স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া যন্ত্রপাতি রাখা হয়েছে পটিয়া ডাকঘরে।
ডাকঘরটি ডিজিটাল সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা কম্পিউটার কম্পোজ, প্রিন্টিং, স্ক্যানিং, ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্যবহার, আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন সুবিধা পেতে পারতেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে সেই সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি।
চিঠির ব্যবহার কমে গেলেও তৈলার দ্বীপ ডাকঘরের কার্যক্রম থেমে নেই। সীমিত অবকাঠামোর মধ্যেই মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পৌঁছে দেওয়ার কাজ করছেন পোস্টমাস্টার আমির হোসেন। তবে ডাকঘরটির জন্য নিজস্ব ভবন ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা আধুনিক ডাক ও ডিজিটাল সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।