দক্ষিণ পূর্ব

ছয় গুলি ছুড়েও শেষ রক্ষা হলো না মোবারকের

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৮ আগস্ট ২০২৬
পঠিত : ৬৫
ছয় গুলি ছুড়েও শেষ রক্ষা হলো না মোবারকের

পুলিশের অভিযানে আটকের পর

ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

ঘরের বাইরে পুলিশ। ভেতরে ফলস ছাদের অন্ধকারে লুকিয়ে সন্ত্রাসী কালা মোবারক। পুলিশ সদস্যরা অবস্থান শনাক্ত করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করতেই ঝাঁঝালো শব্দে ছুটে আসে গুলি। একের পর এক ছয়টি গুলি। কখনো দেয়ালে, কখনো লোহার কপাটে আঘাত করে বিকট শব্দে প্রতিধ্বনিত হচ্ছিল গুলির শব্দ। মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুট দূরে অবস্থান করছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খানসহ পুলিশ সদস্যরা।

এভাবেই কেটে যায় টানটান উত্তেজনায় প্রায় ১০ মিনিট। জীবন-মৃত্যুর এমন শঙ্কার মধ্যেও পিছু হটেনি পুলিশ। বারবার অস্ত্র ফেলে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয় কালা মোবারককে। একপর্যায়ে সপ্তমবার গুলি ছোড়ার চেষ্টা করলে আটকে যায় তাঁর অস্ত্র। এরপর পুলিশের সঙ্গে কৌশলী কথোপকথনের একপর্যায়ে অস্ত্র সমর্পণে রাজি হন তিনি। শেষ পর্যন্ত ফলস ছাদ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোররাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পাল্লানপাড়া এলাকায়। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে বড় সাজ্জাদ বাহিনীর সহযোগী হিসেবে পরিচিত ও একাধিক মামলার আসামি কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের শুরুতেই মোবারকের তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। এরপর বাড়িতে তল্লাশি চালানোর একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা জানতে পারেন, মোবারক ওয়াশরুমের ফলস ছাদের ভেতরে লুকিয়ে আছেন।

পুলিশ সদস্যরা সেখানে প্রবেশের চেষ্টা করতেই ফলস ছাদের ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন মোবারক। পরপর ছয়টি গুলি ছোড়ার পর পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়।

পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘অভিযানের শুরুতেই মোবারকের তিন সহযোগীকে আটক করা হয়। তবে মোবারক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়ির ফলস ছাদের ভেতর লুকিয়ে ছিলেন। পরে তল্লাশির একপর্যায়ে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পরই ফলস ছাদের ভেতর থেকে মোবারক পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। একের পর এক গুলি পুলিশের দিকে ছুটে আসছিল। কখনো গুলি পাকা দেয়ালে আঘাত করছিল, আবার কখনো বিকট শব্দে লোহার কপাটে আছড়ে পড়ছিল। এতে পুরো বাড়িজুড়ে চরম আতঙ্ক ও শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’

পুলিশ সুপার জানান, অভিযানের সময় তিনিও আহত হন। জীবনহানির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতার সঙ্গে অবস্থান ধরে রাখেন। গুলির মুখে পিছু না হটে কৌশলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালানো হয়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান বলেন, ‘যেকোনো মুহূর্তে গুলি ছুটে আসতে পারে—এমন শঙ্কার মধ্যে প্রায় ১০ মিনিট কেটে যায়। আমরা বারবার তাকে অস্ত্র সমর্পণ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানাই। তাকে আশ্বস্ত করা হয়, অস্ত্র সমর্পণ করলে গুলি করা হবে না।’

ওসি বলেন, পুলিশের সঙ্গে মোবারকের কৌশলী কথোপকথনের একপর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি অস্ত্র সমর্পণে রাজি হন। পরে ফলস ছাদ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মোবারকের কাছ থেকে ব্রাজিলের তৈরি একটি ৯ এমএম তরাস পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, পিস্তলটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র। কীভাবে অস্ত্রটি মোবারকের হাতে পৌঁছেছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের তথ্যমতে, কালা মোবারকের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলাসহ গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।

প্রায় ১০ মিনিটের সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষ হয় মোবারকের অস্ত্র সমর্পণ ও গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে। পুলিশের সাহস, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অভিযানটি সম্পন্ন হয়।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।