দক্ষিণ পূর্ব

জমির আসল মালিক কে, জানতে পারবেন মোবাইলে

ইমাম উদ্দিন
ইমাম উদ্দিন
প্রকাশ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৭ দুপুর
পঠিত : ২৩
জমির আসল মালিক কে, জানতে পারবেন মোবাইলে

জমি কেনাবেচায় মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি ও তথ্যের অসংগতির কারণে অনেকেই প্রতারণার শিকার হন। বিক্রেতার কথায় বিশ্বাস করে জমি কিনে পরে দেখা যায়, সরকারি রেকর্ডে তার নামে জমির কোনো তথ্য নেই। এ ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে জমি কেনার আগে ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরকারি ভূমিসেবা ওয়েবসাইটে জমির রেকর্ড সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা নেওয়া যায়।

সরকারি ওয়েবসাইটে জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও রেকর্ডে থাকা মালিকের নামসহ বিভিন্ন তথ্য দেখা সম্ভব। তবে অনলাইনে পাওয়া তথ্যই জমির চূড়ান্ত মালিকানা প্রমাণ করে না। জমি কেনার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করাও জরুরি।

যেভাবে অনলাইনে জমির তথ্য যাচাই করবেন

জমির রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট land.gov.bd এবং অনলাইন ভূমিসেবা ব্যবস্থার সংশ্লিষ্ট সেবা ব্যবহার করা যায়।

প্রথমে dlrms.land.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। এরপর সেখানে সংশ্লিষ্ট সেবা নির্বাচন করে জমির অবস্থান অনুযায়ী জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ও মৌজার তথ্য দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করুন। সেবাটিতে নাম দিয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ থাকলে সে পদ্ধতিও ব্যবহার করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট রেকর্ড পাওয়া গেলে সেখানে থাকা মালিকের নাম, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ, জমির শ্রেণি এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে দেখুন। জমিটি আপনার নামে রেকর্ড করা আছে কি না, সেটিও যাচাই করতে পারবেন।

যেসব তথ্য মিলিয়ে দেখবেন

অনলাইনে জমির তথ্য যাচাইয়ের সময় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সেগুলো হলো রেকর্ডে থাকা মালিকের নাম; খতিয়ান ও দাগ নম্বর; জমির মোট পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট মালিকের অংশ; মৌজা ও জমির অবস্থান; জমির শ্রেণি যেমন বসতভিটা বা কৃষিজমি এবং রেকর্ডের হালনাগাদ অবস্থা

জমি সরকারি নাকি ব্যক্তিমালিকানাধীন, কিংবা জমি নিয়ে মামলা বা বিরোধ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও ভূমি অফিসের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু অনলাইন রেকর্ড দেখে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

জমি কেনার আগে যেসব কাগজ যাচাই জরুরি

জমি কেনার ক্ষেত্রে শুধু খতিয়ান বা অনলাইন রেকর্ডের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। বিক্রেতার মালিকানার দলিল, আগের দলিলের ধারাবাহিকতা, নামজারি, খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের তথ্য যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি জমির প্রকৃত দখল, সীমানা ও পরিমাণ সরেজমিনে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

জমিটি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ওয়ারিশদের অধিকারও যাচাই করতে হবে। জমি নিয়ে মামলা, বন্ধক বা অন্য কোনো আইনি জটিলতা আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে প্রয়োজনে আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের সহায়তা নেওয়া উচিত।

অনলাইন তথ্য যাচাই করলেই কি মালিকানা নিশ্চিত?

না। অনলাইনে প্রদর্শিত তথ্য প্রাথমিক যাচাইয়ে সহায়তা করলেও সেটিই চূড়ান্ত মালিকানার নিশ্চয়তা নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তথ্য হালনাগাদ না-ও থাকতে পারে। আবার জমির দলিল, নামজারি ও রেকর্ডের মধ্যে অসংগতি থাকতে পারে।

তাই জমি কেনার আগে সব নথির তথ্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

জমি কেনাবেচায় প্রতারণা এড়াতে বিক্রেতার মৌখিক বক্তব্যের ওপর নির্ভর না করে সরকারি রেকর্ড ও মূল কাগজপত্র যাচাই করুন। সামান্য সতর্কতা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে পারে।

ইই

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।