দক্ষিণ পূর্ব

ফরিদপুরে তিন শিক্ষার্থীসহ মা-ছেলের মৃত্যু

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:১০ দুপুর
পঠিত : ৪
ফরিদপুরে তিন শিক্ষার্থীসহ মা-ছেলের মৃত্যু

ছবি

Degchibarictg

ফরিদপুরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী এবং বালুবাহী ট্রাক উল্টে ইজিবাইক ও প্রাইভেটকার চাপা পড়ার ঘটনায় মা-ছেলেসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দী এবং ফরিদপুর সদর উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা পৌরসভার ছয় শিক্ষার্থী শুক্রবার সকালে ফরিদপুরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ‘সমতায় তারুণ্য’ শীর্ষক একটি কর্মশালায় অংশ নিতে আসেন। কর্মশালা শেষে বিকেল ৩টার দিকে তাঁরা একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মাগুরার উদ্দেশে রওনা দেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার আড়কান্দী এলাকায় পৌঁছালে সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী ‘কিং ফিশার’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শিক্ষার্থী নিহত হন। আহত অপর তিনজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নিহত শিক্ষার্থীরা হলেন মাগুরা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তামান্না তাবাচ্ছুম ঐশী (২৪), বুজরুক শ্রীকুণ্ডি মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী রাব্বি মোল্যা (১৯) এবং মাগুরা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নূর মোহাম্মদ (২২)। তাঁদের সবার বাড়ি মাগুরা পৌর এলাকায়।

আহতরা হলেন বুজরুক শ্রীকুণ্ডি মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সাগর বিশ্বাস (২০), রিয়া (১৮) এবং মাগুরা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জয় (১৯)।

ভলান্টিয়ার ডেভেলপমেন্ট ফোরামের (ভিডিএফ) মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি ইব্রাহিম শেখ জানান, নিহত ও আহত ছয় শিক্ষার্থীই মাগুরা পৌর এলাকার বাসিন্দা। পড়াশোনার পাশাপাশি তাঁরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কর্মশালা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাগুরাগামী একটি খালি অ্যাম্বুলেন্স পেয়ে তাঁরা সেটিতে ওঠেন। পরে আড়কান্দী এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন।

মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শামীম রেজা জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস সালাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্সচালকের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, শুক্রবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় বালুবাহী একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কে উল্টে যায়। এ সময় ট্রাকের বালুর নিচে একটি ইজিবাইক ও একটি প্রাইভেটকার চাপা পড়ে। এতে দুই যানবাহনের আট যাত্রী আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক সুমী আক্তার (৩২) ও তাঁর ছেলে শাওন (৭) কে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁদের বাড়ি মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলায়।

এদিকে, বালুর নিচে চাপা পড়া অবস্থায় আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর মরদেহটি উদ্ধার করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর পরিচয় জানা যায়নি।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শ্রীবাস বাড়ৈ জানান, দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে মা-ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতার পর আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

আরএইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।