দক্ষিণ পূর্ব

জুট রেলঘাটে নকল সার তৈরির কারখানার সন্ধান

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
প্রকাশ : ৭ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৫০ দুপুর
পঠিত : ৩৬
জুট রেলঘাটে নকল সার তৈরির কারখানার সন্ধান

ছবি

Degchibarictg

চট্টগ্রাম নগরের জুট রেলঘাট এলাকায় নকল সার তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পেয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অভিযানে দুটি গুদাম থেকে এক হাজারের বেশি বস্তা নকল, পচা ও মানহীন ডিএপি সার জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) যৌথভাবে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, গুদাম দুটিতে ভালো মানের ডিএপি সারের সঙ্গে পচা ও মানহীন সার মিশিয়ে নতুন করে বস্তাবন্দি করা হচ্ছিল। পরে এসব সার দেশের বিভিন্ন এলাকার বাজারে পাঠানো হতো।

অভিযান সংশ্লিষ্টদের দাবি, গুদাম দুটি থেকে এরই মধ্যে প্রায় ৪০ হাজার বস্তা ভেজাল ও মানহীন সার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হয়েছে। এমনকি বিএডিসির বস্তা ব্যবহার করে এসব সার সরকারি গুদামেও পাঠানো হয়েছে কি না, সে বিষয়েও প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে।

dokkhinpurbo-com.d8b49242c084178f59d72328feb37b6b.webp?v=1791384568

অভিযানের সময় গুদাম দুটিতে স্তুপ করে রাখা বিপুল পরিমাণ সার দেখা যায়। কোনো কোনো বস্তা থেকে রাসায়নিক ও পানি বের হয়ে আসছিল। আবার কিছু বস্তার সার ইটের মতো শক্ত হয়ে গেছে। এসব সারের মান ও মেয়াদ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

পাশের আরেকটি গুদামে পাওয়া যায় পচা সারের স্তূপ। সেখানে পচা ও মানহীন সারের সঙ্গে ভালো মানের ডিএপি সার মেশানোর পর তা নতুন বস্তায় ভরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে জানান কর্মকর্তারা।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, ভেজাল সার তৈরির সঙ্গে একটি চক্র জড়িত। বিষয়টি তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুদামের এক পাশে কয়েকশ বিএডিসির বস্তাও পাওয়া গেছে। এসব বস্তায় করে মানহীন সার সরকারি গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিএডিসির কর্মকর্তারা জানান, এসব সার সরকারি কোন কোন গুদামে গেছে, কোথায় সরবরাহ করা হয়েছে এবং কারা তা কিনেছে—এসব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে। নষ্ট ও মানহীন সার কীভাবে সরকারি গুদাম পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযানের সময় গুদামের মালিকপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। সেখানে শত শত শ্রমিক কাজ করলেও ক্যামেরার সামনে মালিক বা সংশ্লিষ্টদের পরিচয় জানাতে রাজি হননি তারা। তবে শ্রমিকদের সর্দার জানান, একটি গুদাম জিলানী এন্টারপ্রাইজের এবং অন্যটি চৌধুরী মাঝির।অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু অসাধু চক্রের মানহীন সার ব্যবহারের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। পাশাপাশি এসব সার ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদে কৃষিজমির উর্বরতা ও মাটির গুণাগুণ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।সার সংকটের সুযোগ নিয়ে পচা ও মানহীন সার নতুন বস্তায় ভরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে। 

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।