গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরী।
শনিবার (২৯ আগস্ট) চট্টগ্রাম নগর জামায়াতের কার্যালয় বিআইএ মিলনায়তনে মহানগরীর মজলিসে শূরার দ্বিতীয় সাধারণ অধিবেশনে এ আহ্বান জানানো হয়। মহানগর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি।
অধিবেশনে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রেখে আসছে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও দেশের কল্যাণে দলটি কাজ করে যাচ্ছে। সংসদেও জামায়াতের প্রতিনিধিরা জনগণের পক্ষে ভূমিকা রাখছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য আগামী ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তিনি কর্মসূচি সফল করতে দলীয় নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
অধিবেশনে দুটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে একটি ছিল ৫ সেপ্টেম্বরের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ বাস্তবায়নসংক্রান্ত রাজনৈতিক প্রস্তাব এবং অপরটি চট্টগ্রাম মহানগরীর স্থানীয় সমস্যা নিয়ে।
রাজনৈতিক প্রস্তাবে দাবি করা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে পরিবর্তন এলেও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হয়নি। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচারও সম্পন্ন হয়নি বলে দাবি করা হয়। বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্যও সরকারকে দায়ী করা হয়।
প্রস্তাবে বলা হয়, খুন, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে মানুষ অতিষ্ঠ। ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা এবং জননিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান পর্যন্ত লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে স্থানীয় সমস্যা সংক্রান্ত প্রস্তাবে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতাকে অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। জলাবদ্ধতা প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবিও জানানো হয়।
প্রস্তাবে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের নিজস্ব দক্ষ জনশক্তির মাধ্যমে বন্দর পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া নগরীর যানজট, পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি, ডেঙ্গু ও হাম, শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস ও দখলদারিত্ব, স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় চাঁদাবাজি ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মাদক ও কিশোরগ্যাংয়ের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে প্রস্তাবে মাদকের উৎস ও সরবরাহ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং কিশোরদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে কিশোরগ্যাংয়ের মদদদাতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
অধিবেশনে সরকারের গত ১৮০ দিনে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও দেশে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে নগরবাসীর নাগরিক দুর্ভোগ নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অধিবেশনে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সল মুহাম্মদ ইউনুসসহ নগর ও থানা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।