দক্ষিণ পূর্ব

টেকনাফে তিনদিনে ৩০ জনকে অপহরণ

দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৪ জানুয়ারী ২০২৫
পঠিত :
টেকনাফে তিনদিনে ৩০ জনকে অপহরণ

কক্সবাজারের টেকনাফ যেন এখন অপহরণের স্বর্গরাজ্য। প্রতিনিয়ত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এসব অপহরণের অভিযোগের তীর রোহিঙ্গাদের দিকে। স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তির সহযোগিতায় তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। গত তিনদিনে অন্তত ৩০ জনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

সর্বশেষ শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ফের অপহরণের শিকার হয়েছেন টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল এলাকায় মৃত আব্বাস মিয়ার ছেলে রাজমিস্ত্রী ছৈয়দ হোছাইন। সন্ধ্যায় পাহাড় থেকে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা নেমে ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে ঘরের ভেতরে ঢুকে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে পাহাড়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। 

স্থানীয় নুর হোসেন বলেন, মাগরিবের পর পাহাড়ি ডাকাতদল এলাকায় নেমে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একজনকে অপহরণ নিয়ে যায়, নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। 

তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শোভন কুমার সাহা বলেন, ফাঁকা গুলিবর্ষণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে, বিষয়টি সহকারে দেখছি। এছাড়া অপহৃত জসিমকে উদ্ধারেও অভিযান চলমান রয়েছে। 

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে ৩০ জন অপহরণের শিকার হন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান ও মুক্তিপণ দিয়ে ২৬ জন ফিরে এলেও এখনো চারজন অপহরণ চক্রের হাতে জিম্মি। এর মধ্যে মুদি দোকানদার জসীমের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা দাবি করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

টেকনাফ হ্নীলার বাসিন্দা সৈয়দ আলম (৩৪) বলেন, সম্প্রতি টেকনাফে অপহরণ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। যার ফলে এলাকায় স্থানীয় মানুষ আতঙ্কিত ।প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার অভিযান চালানো হলেও থামছেনা অপহরণ। অপহরণকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান। প্রয়োজন।

বাহারছড়ার বাসিন্দা তারেকুর রহমান (২৭) বলেন, এই অপহরণের পিছনে কিছু স্থানীয় সহযোগিতা করছে যার ফলে অপহরণ নির্মূলের বিষয়টা আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এছাড়া যৌথ বাহিনী ও স্থানীয়দের সহযোগিতা থাকলে রোহিঙ্গারা এসব অপকর্মে জড়ানোর সাহস করবে না।

কক্সবাজার জেলা জজ আদালতের অ্যাডভোকেট মো. মনির হোসাইন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফে নাফ নদী বন্ধ থাকার কারনে স্থানীয় অনেক মানুষের জীবিকা বন্ধ হয়ে গেছে। যার ফলে এসব মানুষরা রোহিঙ্গাদের সাথে মিশে নানা ধরনের অপকর্মে জড়িয়ে গেছে। 

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসীম উদ্দিন বলেন, উখিয়া-টেকনাফ মানব পাচার কেন্দ্রিক রোড ও দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থাকায় এখানে মানবপাচার, অপহরণসহ নানা অপকর্মের ঘটনা ঘটে।প্রত্যেকটি অপহরণের সাথে মানব ও মাদক পাচারের সম্পৃক্ততা পেয়েছি। এ বিষয় নিয়ে কাজ করছি।

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।