দক্ষিণ পূর্ব

প্রশাসক নিয়োগের পর ঋণগ্রস্ততা কাটিয়ে বদলে গেছে লামা পৌরসভা

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৩৪ দুপুর
পঠিত : ৬৯
প্রশাসক নিয়োগের পর ঋণগ্রস্ততা কাটিয়ে বদলে গেছে লামা পৌরসভা

ছবি

Degchibarictg

​তীব্র আর্থিক সংকট, কোটি টাকার ঋণ আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতনের বোঝা মাথায় নিয়ে ধুঁকতে থাকা বান্দরবানের লামা পৌরসভা এখন ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য উদাহরণ। লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তাঁর বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও সুশাসনের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পৌরসভার চিত্রে আমূল পরিবর্তন এসেছে।

​প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিনের কঠোর তদারকি ও কার্যকর রাজস্ব ব্যবস্থার ফলে দীর্ঘদিনের জমে থাকা বহু দেনা পরিশোধ করা সম্ভব হয়েছে। লামা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, বিগত ১৬ বছর ধরে আটকে থাকা সরকারি জিপিএফ (GPF) ও সিপিএফ (CPF) ফান্ডের ২৯ লাখ টাকা সফলভাবে পরিশোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পৌরসভার নামে জমে থাকা ১২ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ১৮টি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে অপচয় বন্ধ করা হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (BMDF)-এর ৯ লাখ টাকা ঋণ এবং জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত বকেয়া ফি বাবদ ৯ লাখ ৫৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে পৌর প্রশাসন।

​পূর্বে লামা পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ৩ থেকে ৪ মাস পর্যন্ত নিয়মিত বেতন-ভাতা বন্ধ থাকত, যা তাঁদের জীবনযাত্রাকে চরম দুর্বিষহ করে তুলেছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে এখন কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বেতন বকেয়া নেই এবং প্রতি মাসেই নিয়মিত বেতন পরিশোধ করা হচ্ছে। এছাড়া পৌরসভার প্রয়াত এক কর্মকর্তার পরিবারের বকেয়া পাওনা বাবদ নগদ ৯ লাখ টাকা হস্তান্তরের ফাইল অনুমোদন করে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে।

​পৌরসভার রাজস্ব আদায়েও এসেছে অভাবনীয় সাফল্য। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ৫৮ লাখ ২১ হাজার ৮০৪ টাকা, ট্রেড লাইসেন্স বাবদ ১০ লাখ টাকা এবং নাগরিকত্ব সনদ, প্রত্যয়ন পত্র, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদ বাবদ ৪ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। পাশাপাশি দোকান ভাড়া বাবদ ৭ লাখ টাকা এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য ৩৯ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ১৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা এবং চলতি অর্থবছরের গত তিন মাসেই ১৬ লাখ টাকা আদায় হয়েছে।

​অবকাঠামো ও সমাজসেবামূলক কাজের অংশ হিসেবে প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিনের প্রচেষ্টায় ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক বিলছড়ি সিলেটি পাড়া জামে মসজিদের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন এবং ৪ নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়া এলাকার পানির টাংকি মসজিদের চাল মেরামতে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

​পৌরসভার কর নির্ধারক নুর মোহাম্মদ জানান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও অপচয় বন্ধের মাধ্যমে একটি ঋণগ্রস্ত পৌরসভাকে পুনরায় সচল ও স্বাবলম্বী করা সত্যিই প্রশংসনীয়। অন্যদিকে পৌরসভার দারোয়ান রাজিব মল্লিক বলেন, আগে ৩-৪ মাস বেতন বকেয়া থাকলেও এখন নিয়মিত বেতন পাওয়ায় তাঁদের আর্থিক কষ্ট দূর হয়েছে।

​নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. মঈন উদ্দিন বলেন, "সরকার আমাকে জনগণের সেবা করার লক্ষ্যেই পাঠিয়েছে এবং আমি অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করেছি। লামা পৌরসভার এই দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক সহায়তা এবং সচেতন নাগরিকদের নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের মাধ্যমে।"

​উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন মো. মঈন উদ্দিন। যোগদানের পর থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর প্রশাসক, ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসক, সহকারী কমিশনার (ভূমি), রেজিস্ট্রেশন অফিসার ও নির্বাহী আদালতের বিচারক—এই সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব একযোগে সুচারুভাবে সামলেছেন তিনি।

আর

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।