দক্ষিণ পূর্ব

৩ লাখ টাকা জরিমানা

বনফুলের মালিক আ'লীগ নেতা মোতালেবের গোডাউন থেকে ২,৪০১ বস্তা সরকারি গম জব্দ

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:২২ বিকাল
পঠিত : ২২
বনফুলের মালিক আ'লীগ নেতা মোতালেবের গোডাউন থেকে ২,৪০১ বস্তা সরকারি গম জব্দ

ছবি সংগৃহীত

Degchibarictg

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ থানার শেরশাহ এলাকায় বনফুল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কিশোয়ানের একটি গুদামে ২ হাজার ৪০১ বস্তা সরকারি লাল গম জব্দ করেছে প্রশাসন। সরকারি খাদ্যশস্য মজুদের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে এসব গম জব্দ ও জরিমানা করা হয়।

গুদামটি ইউনাইটেড সানফ্লাওয়ার মিলস লিমিটেডের বলে জানিয়েছেন অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন মণ্ডল অপু। প্রতিষ্ঠানটি বনফুল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। বনফুল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মোতালেবের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, গুদামে অবৈধভাবে খাদ্যদ্রব্য মজুতের অভিযোগ পেয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়। পরে গুদামে থাকা বস্তাগুলো যাচাই করে সরকারি গম বলে শনাক্ত করা হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা গম কেনার পক্ষে কিছু চালান ও নথিপত্র দেখান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন মণ্ডল অপু বলেন, সরকারি খাদ্যশস্য কেনার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি কিছু নথিপত্র দেখিয়েছে। তবে খাদ্যশস্য মজুত রাখার জন্য খাদ্য অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ফুড গ্রেইন লাইসেন্স থাকতে হয়। অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির কাছে এ ধরনের কোনো লাইসেন্স পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও লাইসেন্স না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তিনি আরও বলেন, খাদ্যদ্রব্য উৎপাদন, মজুত, স্থানান্তর, পরিবহন, সরবরাহ, বিতরণ ও বিপণনসংক্রান্ত অপরাধ প্রতিরোধে ২০২৩ সালের আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি গুদাম থেকে ২ হাজার ৪০১ বস্তা লাল গম জব্দ করা হয়েছে।

জব্দ করা গম খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় বায়েজিদ থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে বলে জানান তিনি। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারলে গম ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। অন্যথায় আইনানুগ প্রক্রিয়ায় এসব গম নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইখতিয়ার উদ্দিন জানান, গম মজুদের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গুদামসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গম বিভিন্ন নিলাম থেকে কেনার দাবি করে নথিপত্র দেখিয়েছেন। সেসব নথির সত্যতা ও আইনি বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, পতেঙ্গা সাইলোর তত্ত্বাবধায়ক রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, সরকারি গম নির্ধারিত গুদাম ছাড়া অন্য কোথাও খালাস করার নিয়ম নেই। সাইলো থেকে গমবাহী ট্রাক ছাড়ার সময় চালান দেওয়া হয়। নির্ধারিত গুদামে গম পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপক চালানে স্বাক্ষর করে সেটি আবার সাইলোতে পাঠান।

আর /দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।