চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে নয়াবাজার মোড়ে আয়োজিত সমাবেশ শেষে মিছিলটি সাগরিকা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান বলেন, “বাংলার মাটিতে স্বৈরাচার ও পতিত গোষ্ঠী আওয়ামী লীগের আর কোনো ঠাঁই হবে না। দেশের জনগণ আর কখনো কোনো ফ্যাসিস্টকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না।”
তিনি বলেন, “জনগণের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সংসদে সরকার গঠন করেছে। তাই বিএনপির বর্তমান লড়াই হচ্ছে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করা এবং তাদের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া।”
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম-১০ আসন বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে ‘আওয়ামী নৈরাজ্য ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হয়।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে সাঈদ আল নোমান বলেন, “আমাদের নেতা দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাইকে আরও সুসংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তাঁর হাতকে শক্তিশালী করে শুধু নিজেদের জন্য নয়, সমাজের পিছিয়ে পড়া শ্রমিক ও নারীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করতে হবে।”
আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিবাদী দল। দেশের মানুষের মনে তাদের বিন্দুমাত্র জায়গা নেই। তাদের অতীতের সকল অপকর্ম ও কর্মকাণ্ডকে জনগণ চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমান কর্মকাণ্ডও মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সাধ্যমতো সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। রাজনীতি মানেই মানুষের সেবা, রাজনীতি মানেই ইবাদত। সেভাবেই রাজনীতি করতে হবে, যেন মানুষ মনে করে—আমরা স্বস্তিতে আছি।”
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন সাঈদ আল নোমান। তিনি বলেন, “দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। এই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে এবং সামাজিক ভূমিকা রাখতে হবে। মানুষের সেবা করার সুযোগ সবসময় আসে না। তাই এই সময়কে কাজে লাগিয়ে সবাইকে মানবিক কাজ ও জনকল্যাণে নেমে পড়তে হবে।”
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আজম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য মোশাররফ হোসেন ডিপ্টির সঞ্চালনায় সমাবেশে নগর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবং বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, মহিলা দল ও শ্রমিক দলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাগরিকা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।