নিজস্ব প্রতিবেদক
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
আজ রবিবার (২৮ সেপ্টেমবর) মহাষষ্ঠীর মূল আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে শুরু হলো পাঁচ দিনব্যাপী এই পূজা। এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় বোধনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার জাগরণ সম্পন্ন হয়।
শাস্ত্রকারদের মতে, বোধন অর্থ জাগরণ—ঘুম থেকে জাগানো, দেবীর আগমনের অনুভব। ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিবছর শরতে কন্যারূপে দশভূজা দেবী দুর্গা কৈলাস থেকে বাবার বাড়িতে আসেন, আর বিজয়া দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নেন। এবার পূজা চলবে আগামী ২ অক্টোবর বিজয়া দশমী পর্যন্ত।
দেবীর আগমন ও গমনশাস্ত্রমতে, এবছর দেবী গজে (হাতি) চড়ে মর্ত্যে আগমন করবেন, যা শান্তি, সমৃদ্ধি ও শস্য–শ্যামলার প্রতীক। তবে দেবীর গমন হবে দোলায় (পালকি), যা অশুভ ধরা হয় এবং রোগব্যাধি বা মড়কের ইঙ্গিত বহন করে।
দেশব্যাপী আয়োজন এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপ ও মন্দিরে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১ হাজার ৮৯৪টি বেশি। চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় এবার মোট ১ হাজার ৯০৬টি মণ্ডপে পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে জেলায় ১ হাজার ৬১৪টি এবং মহানগরে ২৯২টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন হয়েছে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বৈষম্য ও দুর্নীতিমুক্ত একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ার যে অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে, তার সফল বাস্তবায়নে ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সকল অশুভ, অন্যায় ও অন্ধকার পরাজিত হয়ে শুভ চেতনার জয় হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে কল্যাণ ও সমৃদ্ধির পথে।
পূজাকে ঘিরে সারাদেশে এবং চট্টগ্রামে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে।
শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি আর মঙ্গলসংগীতে মুখরিত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপগুলো। প্রতিমা সাজানো থেকে আলোকসজ্জা—সবকিছুতেই এখন উৎসবের আমেজ।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।