দক্ষিণ পূর্ব

মালিকের মালামাল-টাকা আত্মসাত, সাজাপ্রাপ্ত কর্মচারী গ্রেপ্তার

shakhawat sohan
প্রকাশ : ৩ অক্টোবর ২০২৬ ০২:৩৩ দুপুর
পঠিত : ১
মালিকের মালামাল-টাকা আত্মসাত, সাজাপ্রাপ্ত কর্মচারী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মালিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ মালামাল ও নগদ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রায়ের পর সাজা পরোয়ানাভুক্ত এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আমির হোসেন। তিনি বাঁশখালী উপজেলার কাথরিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মানিক পাঠান এলাকার বাসিন্দা জেবল হোছাইনের ছেলে। গতকাল শুক্রবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম নগরের ২৫ এন এ চৌধুরী রোড, আন্দরকিল্লার বাসিন্দা মো. জোবায়েরের মালিকানাধীন ‘মেসার্স জোবায়ের এন্টারপ্রাইজ’-এ অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করতেন আমির হোসেন। প্রতিষ্ঠানের হিসাব সংরক্ষণ এবং গুদামে থাকা মালামালের হিসাব দেখাশোনার দায়িত্বও তার ওপর ছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে ২০১৮ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আমির হোসেন ও তার সহযোগী জমির হোসেন পরস্পর যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানের মালিকের পিতার স্বাক্ষর জাল করে গুদাম থেকে প্রায় ৪৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল সরিয়ে নেন। একইসঙ্গে মালামাল বিক্রির আরও ২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সব মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের মার্চে প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক হিসাব, গুদামের মালামাল ও ব্যাংক হিসাব তলব করা হলে আমির হোসেন বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন। পরে ১৫ মার্চ থেকে তিনি প্রতিষ্ঠানে আসা বন্ধ করে দেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি বলে মামলার বাদী অভিযোগ করেন।

পরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. জোবায়ের বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রতারণা, জালিয়াতি ও জাল দলিল ব্যবহারসহ দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

মামলার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছয় বছরের কারাদণ্ড অর্থদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করে আদালত। রায়ের পর কর্মচারী আমির হোসেনের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি হয়।

রায় উল্লেখ করা হয়, The Penal Code, ১৮৬০ এর ৪০৮ ধারার অধীন ০২ (দুই) বছর সশ্রম কারাদন্ড, ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো ৩০ (ত্রিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড, The Penal Code, ১৮৬০ এর ৪৬৭ ধারার অধীন ০২ (দুই) বছর সশ্রম কারাদন্ড, ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো ৩০ (ত্রিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড, The Penal Code, ১৮৬০ এর ৪৬৮ ধারার অধীন ০২ (দুই) বছর সশ্রম কারাদন্ড, ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো ৩০ (ত্রিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড, The Penal Code, ১৮৬০ এর ৪৭১ ধারার অধীন ০২ (দুই) বছর সশ্রম কারাদন্ড, ৫০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা অর্থদন্ড, অনাদায়ে আরো ৩০ (ত্রিশ) দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডে দন্ডিত করা হল। সকল সাজার মেয়াদ একসাথে গণনা করা হবে।

সাজা উল্লেখপূর্বক অভিযুক্ত (দন্ডিত) মো. আমির হোসেন এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা ইস্যু করা হোক। অভিযুক্ত (দন্ডপ্রাপ্ত) ধৃত বা আত্মসমর্পণের তারিখ থেকে সাজার মেয়াদ গণনা শুরু হবে।

সেই সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতেই বাঁশখালী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি আমির হোসেনের অবস্থান সম্পর্কে গোপন তথ্য পেয়ে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দক্ষিণপূর্ব/এসএস


   

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।