বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা,চবি
বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বিশ্ব নেতৃত্বের অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় মডেল ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক ইসলামি স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারী। তিনি বলেন, আজকের পৃথিবীতে নেতৃত্বের যে সংকট আমরা দেখি, তার সমাধান নিহিত আছে রাসুল (সঃ)-এর এই গুণাবলির মধ্যে। যদি নেতা ও অনুসারী উভয়েই তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে, তবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়, শান্তি ও মানবিকতা।
বুধবার(২৯ অক্টোবর) বিকাল ৩টা থেকে সোয়া ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের মিলনায়তনে মিনার, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়' এর আয়োজনে 'সিরাত মাহফিল ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্য তিনি এসব আলোচনা করেন।
মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. আ.ক.ম. আব্দুল কাদের।
এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের প্রাক্তন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু বকর রফিক, চবির সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ এনায়েত উল্যা পাটওয়ারী, আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তালুকদার, মিনারের চেয়ারম্যান ও চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী এবং চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্য মিনার কতৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, "যে সময় পৃথিবীর সকল লোক পাপাচারে লিপ্ত ছিল তখনই মহানবী (সাঃ) এর আগমন ঘটে। কোরআনের ঐশী বাণী দিয়ে তিনি সেই পাপাচারে লিপ্ত মানুষগুলোকে সোনার মানুষে পরিণত করেছিলেন। আমাদের চিন্তা করতে হবে আমাদের কাছে কোরআন থাকার পরও কেন হাজার হাজার মুসলমান নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের বলবো আপনাদের রাসূল(সাঃ) এর জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আরোও বাস্তবধর্মী গবেষণা করা প্রয়োজন, যুবকদের বোঝানো উচিত রাসূল (সাঃ)এর আদর্শেই একমাত্র উত্তম আদর্শ।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন বলেন, "একজন শিক্ষক হিসেবে আমাদের কাজ হচ্ছে কথা বলে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান দেওয়া। আমরা যে ব্যাগগ্রাউন্ড থেকে শিক্ষা অর্জন করেছি সেখানে রাসুল (সঃ)
সম্পর্কে কোন পাঠ্যসূচি না থাকায় কিছুই জানতে পারিনি। অথচ কাল মার্ক্স, লেলিন, মেকিয়ালিসহ যত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আছে সবাই হলো আমার প্রিয় নবীর ফটোকপি। অথচ রাসুল (সঃ) হচ্ছেন একজন আদর্শ রাষ্ট্র নায়ক। কিন্তু শিক্ষা ব্যবস্থায় সেই বিষয়টা কখনও উল্লেখ করা হয়না। আমরা পশ্চিমা শিক্ষা ব্যবস্থা অনুকরণ করতে অভ্যস্থ। আমাদের সবার উচিত রাসুলের জীবনী অনুসরণ অনুকরণ করা।"
চাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, "আমরা লক্ষ্য করেছি রাসুল(সা:) এর সংস্পর্শে নিঃস্ব ক্রীতদাসরাও এসে সোনার মানুষে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে ঐ মানুষগুলো কিছুদিনের ব্যবধানেই বিশ্বকেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। পৃথিবীর বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্রের মতো সমাজতান্ত্রিকরা সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েও তারা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বরং তারা পৃথিবীকে উপহার দিয়েছে দুটি বিশ্বযুদ্ধ। আমরা বিশ্বাস করি পৃথিবীর কোন না কোন প্রান্তে আবার তারেক বিন জিয়াদের জন্ম হবে, কোনো না কোনো প্রান্তে স্পেন বিজয়ী বিভিন্ন বীর-সেনানিদের জন্ম হবে, ফিলিস্তিনে আবার সালাউদ্দিন আইয়ুবীরা জেগে উঠবে, সেই সাথে নতুন পৃথিবী গড়ার জন্য মুসলিম যুবকরা জেগে উঠবে ইনশাআল্লাহ।"
মিজানুর রহমান আজহারী রাসুল (সঃ) জীবনের গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, "রাসুলুল্লাহ (সঃ) ছিলেন এক অনন্য নেতা, যিনি মানবজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে ছিল না কোনো স্বার্থপরতা, ছিল না ক্ষমতার অহংকার; বরং ছিল সেবা, ভালোবাসা ও মানবকল্যাণের অঙ্গীকার। নবীজির নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বারোটি গুণ হলো, আল্লাহভীতি ও তাকওয়া, ন্যায়পরায়ণতা, দূরদৃষ্টি, সহনশীলতা, পরামর্শ গ্রহণের মনোভাব, দয়া ও মানবিকতা, সাহস ও দৃঢ়তা, সহযোগিতার চেতনা, বিনয়, যোগাযোগ দক্ষতা, নৈতিক দৃঢ়তা এবং আত্মত্যাগ। এই গুণাবলিগুলোই রাসুল (সঃ)-এর নেতৃত্বকে করেছে সর্বজনীন ও কালজয়ী। একজন আদর্শ নেতা কেবল আদেশদাতা নন, তিনি অনুসরণের যোগ্য পথপ্রদর্শক-যেমন ছিলেন প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সঃ)। আজকের পৃথিবীতে নেতৃত্বের যে সংকট আমরা দেখি, তার সমাধান নিহিত আছে রাসুল (সঃ)-এর এই গুণাবলির মধ্যে। যদি নেতা ও অনুসারী উভয়েই তাঁর আদর্শকে অনুসরণ করে, তবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়, শান্তি ও মানবিকতা।"
প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদেরকে প্রথম পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়েছে ল্যাপটপ, ২য় পুরস্কার হিসেবে রয়েছে ট্যাব এবং ৩য় পুরস্কার হিসেবে স্মার্টফোন। ৪র্থ থেকে ২০ তম পর্যন্ত স্থান অর্জনকারী সকলেকে সনদ ও অর্থ পুরুস্কৃত করা হয়।
উল্লেখ্য,'সীরাত পাঠ প্রতিযোগিতা' এর রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় ছিল চলতি মাসের ২৩ অক্টোবর। এর প্রাথমিক বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৫ অক্টোবর রাত ১০টায়। যা অনলাইনে এমসিকিউ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। সশরীরে চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৬ অক্টোবর।
রহা
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।