দক্ষিণ পূর্ব

লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট : ৪ দিন আগে
পঠিত : ৩৩
লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন পুরস্কার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক: 

লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারীদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা এবং পিস্তল, রিভলবার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ সদর দপ্তর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সম্মেলনে এপ্রিল-জুন ২০২৬ সময়ের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন এবং পুলিশ বাহিনীকে জনবান্ধব ও জনপ্রত্যাশিত সংস্থায় পরিণত করতে নিয়মিত কৌশলগত পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। লুণ্ঠিত ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে ইতোমধ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বয়ে বিশেষ ইউনিট গঠন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের পুরস্কারের পরিমাণ পুনর্নির্ধারণের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ভারী অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারীকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা দেওয়া হবে। পিস্তল, রিভলবার বা শটগান উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। এছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেল এবং অন্যান্য লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে।

তথ্যদাতাদের নিরাপত্তার বিষয়েও আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যারা অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দেবেন, তাদের পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে।

মন্ত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাতিলকৃত অস্ত্রের লাইসেন্স জমা না দেওয়ায় সেগুলোকে ইতোমধ্যে অবৈধ অস্ত্র হিসেবে গণ্য করে মামলা করা হয়েছে। এসব অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কোনো কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র, মাদক, চোরাচালান ও চাঁদাবাজি বন্ধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় বিশেষ কৌশলগত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম।

এ সময় পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) একেএম আওলাদ হোসেনসহ বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশের কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার এবং বিভিন্ন জেলার পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি, মহানগর পুলিশ কমিশনার এবং জেলার পুলিশ সুপাররা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও অপরাধ দমন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে ধরেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

আরএইচ 

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।