দক্ষিণ পূর্ব

শতকোটি টাকার মালিক মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কর্মচারী

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৭:৩৭ বিকাল
পঠিত : ৩০
শতকোটি টাকার মালিক মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কর্মচারী

ছবি

Degchibarictg

মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ফটিক।রাষ্ট্রয়াত্ত মেঘনা পেট্রোলিয়ামের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী।পাশাপাশি জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্ভুক্ত সংগঠন মেঘনা পেট্রোলিয়াম শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক। আর সেই সংগঠনের পরিচয়ে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়।দুইটি বহুতল ভবন,বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, দুইটি ট্যাংক লরি,পাঁচটি পেট্রোল পাম্প, প্রাইভেট কারসহ নামে বেনামে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। অসমর্থিত সূত্র জানিয়েছেন, ফটিকের সম্পদের পরিমাণ কমপক্ষে দুইশত কোটি টাকা। চট্টগ্রামে অবস্থিত মেঘনা অয়েলের প্রধান কার্যালয়ের কর্তাদের কাছে নিয়মিত পাঠান মাসোহারা। টাকার গরমে এখানে যা ইচ্ছা তাই করেন তিনি।সম্প্রতি বিনা অনুমতিতে বিদেশ সফরও করেছেন এই শ্রমিক নেতা।

 মেঘনা পেট্রোলিয়ামের কুড়িগ্রাম জেলার পার্বতীপুর ডিপোতে কর্মরত মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ প্রকাশ ফটিক।পদবী মিটার রিডার।বেতন সর্বসাকুল্যে ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু টাকার পাহাড় গড়েছেন এই কর্মচারী।রংপুর শহরে তাঁর আছে ৫ তলা দুইটি বিল্ডিং।যেগুলোর আনুমানিক মূল্য কমপক্ষে ১৫ কোটি।ঢাকার শ্যামলীতে আছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট।ওই ফ্ল্যাটের আনুমানিক মূল্য এক কোটি টাকা।এছাড়া বিভিন্ন স্থানে নামে বেনামে কিনেছেন বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি।

চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী আব্দুল্লাহ ফটিকের আছে পাঁচটি পেট্রোল পাম্প।সেগুলো হলো রংপুরের মিঠাপুকুরে মেসার্স রওশন আরা ফিলিং স্টেশন,পীরগঞ্জে তানভির ফিলিং স্টেশন,গঙ্গাছড়া রোডে আল আরাফাহ ফিলিং স্টেশন,পঞ্চগড়ের ময়দান দীঘিতে এলিট পেট্রোলিয়াম ও কুডিগ্রাম সদরে পনির এন্ড সন্স।এগুলোর মধ্যে রওশন ফিলিং স্টেশন ফটিকের নিজের কেনা।বাকিগুলো ভাড়ায় পরিচালনা করেন এই কোটিপতি শ্রমিক নেতা।

এদিকে ফটিকের তিনটা গাড়ির খোঁজ পেয়েছে দক্ষিণপূর্ব।এগুলোর মধ্যে রয়েছে দুইটি ট্যাংক লরি ও একটি প্রাইভেট কার। লরি দুইটির নাম্বার সাতক্ষীরা ড-১১-০০৪৯ ও ঢাকা মেট্রো ড- ১৪১৯৩৩। আর প্রাইভেট কারটির নাম্বার ঢাকা মেট্রো গ -৪২-২৪২০। 

মেঘনা অয়েলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক নেতা বলেন,'আওয়ামী লীগের সময়ে মেঘনা অয়েল একচ্ছত্র প্রভাব ছিলো ফটিকের।আওয়ামী লীগপন্থী শ্রমিক নেতা- প্রভাবটি কাজে লাগিয়ে তিনি টাকার পাহাড় গড়েছেন।বদলি বাণিজ্য,তেল চুরি থেকে শুরু করে এমন কোন অপরাধ নেই যেটা ফটিক করতো না।স্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে নামে বেনামে টাকা জমিয়েছেন।তার এসব বিষয় তদন্ত করা দরকার। '

জানা যায়, চাকরি বিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বিদেশ সফরে প্রতিষ্ঠানের অনুমতি লাগে।কিন্তু ফটিক বেশ কয়েকবার বিনা অনুমতিতে বিদেশ সফর করেছেন।সম্প্রতি তিনি অনুমতি না নিয়ে মালয়েশিয়া সফর করেছেন।তবে প্রতিবার পার পেলেও এবার আটকে গেছেন তিনি। যমুনা অয়েল কর্তৃপক্ষ তাকে অস্থায়ী বরখাস্ত করেছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল্লাহ ফটিকের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের ।নিজের মালিকানাধীন পাঁচটি পেট্রোল পাম্প থাকার বিষয়ে জানান,'এই পাম্পগুলো আমার নই।আমার ছেলেরা শেয়ারে এগুলো চালায়।'

তিনটি গাড়ি থাকার বিষয়ে তিনি বলেন,আমার একটি প্রাইভেট কার আছে।লরি থাকার বিষয়টি সত্য নয়।

শ্রমিক লীগের সাথে সম্পৃক্ত থেকে মেঘনা অয়েলে প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে তিনি বলেন,গত ১৭ বছর এখানে সবাই আওয়ামী লীগ ছিলো।আমাদেরকে তাই মিলে থাকতে হয়েছে।তবে বর্তমানে কোন সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত নই।

এদিকে বিনা অনুমতিতে বিদেশ সফরের বিষয়ে আব্দুল্লাহ ফটিক বলেন,আমি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ। তাই চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া গিয়েছিলাম। তাড়াহুড়ো থাকায় প্রতিষ্ঠানকে জানাতে পারিনি।

আব্দুল্লাহ ফটিকের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিষয়ে জানতে চাইলে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের এমডি শাহীরুল হাসান বলেন,কিছু বিষয় আমাদের কানেও এসেছে।কিন্তু এক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে। যে কারণে সবকিছু বিচারের আওতায় আনা যায়না।আর বিনা অনুমতিতে বিদেশ যাওয়ার কারণে তাকে অস্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।

আর / দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।