দক্ষিণ পূর্ব

শবে বরাতের রাত যেভাবে কাটাবেন: ইবাদত, দোয়া ও রোজার গুরুত্ব

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পঠিত :
শবে বরাতের রাত যেভাবে কাটাবেন: ইবাদত, দোয়া ও রোজার গুরুত্ব

সংগৃহীত

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক:

আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) পবিত্র শাবান মাসের ১৪ তারিখ। দিবাগত এই রাত মুসলমানদের কাছে পরিচিত শবে বরাত হিসেবে। হাদিসে একে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিসফে মিন শাবান’—অর্থাৎ মধ্য শাবানের রজনী। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য এটি ইবাদত, তাওবা ও আত্মশুদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগের রাত।

মহান আল্লাহ তাআলা উম্মতে মুহাম্মদী (সা.)-এর জন্য কয়েকটি বিশেষ রাত নির্ধারণ করেছেন। এর মধ্যে শবে বরাত অন্যতম, যাকে ‘মুক্তির রাত’ও বলা হয়। এ রাতে আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত ও ক্ষমা বর্ষিত হয় বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

শবে বরাতের মর্যাদা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,‘যখন শাবানের মধ্য দিবস আসবে, তখন তোমরা রাতে নফল ইবাদত করবে এবং দিনে রোজা পালন করবে।’—(ইবনে মাজাহ)

অন্য এক হাদিসে সাহাবি হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,‘অর্ধ শাবানের রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর সৃষ্টির দিকে রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’—(ইবনে হিব্বান)

হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, এক রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) এত দীর্ঘ সেজদায় ছিলেন যে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি আশঙ্কা করেন। পরে নবী করিম (সা.) জানান, এটি অর্ধ শাবানের রাত—যে রাতে আল্লাহ তায়ালা ক্ষমাপ্রার্থনাকারীদের ক্ষমা করেন, অনুগ্রহপ্রার্থীদের অনুগ্রহ করেন এবং বিদ্বেষ পোষণকারীদের তাদের অবস্থাতেই ছেড়ে দেন।(শুআবুল ঈমান, বায়হাকি)

যেভাবে ইবাদত করবেন

শবে বরাতের রাতে নির্দিষ্ট কোনো নামাজ বা বিশেষ নিয়ম নেই। রাসুলুল্লাহ (সা.) কিংবা সাহাবায়ে কেরাম এ রাতে আলাদা কোনো পদ্ধতিতে নামাজ আদায় করেননি। তাই নতুন কোনো আমল উদ্ভাবন না করে সাধারণ নফল ইবাদতের মাধ্যমেই রাতটি কাটানো উচিত।

এই রাতে মুসলমানরা নফল নামাজ আদায় করবেন,কোরআন তিলাওয়াত করবেন,জিকির ও ইস্তিগফার করবেন,আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও কল্যাণ কামনায় দোয়া করবেন।

শবে বরাতের দোয়া

এ রাতে নির্দিষ্ট কোনো দোয়া না থাকলেও রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত একটি দোয়া পাঠ করা যেতে পারে—আরবি:

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ

উচ্চারণ:

আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রজবা ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।

অর্থ:

হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।—(মুসনাদে আহমাদ)

হাদিসে শবে বরাতের পরদিন রোজা রাখার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ—যা আইয়ামে বিদ নামে পরিচিত—এই তিন দিনের নফল রোজা সুন্নত। শাবান মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের পর সবচেয়ে বেশি নফল রোজা রাখতেন বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

শবে বরাত ও শাবান মাস মুসলমানদের জন্য আল্লাহর নৈকট্য অর্জন, গুনাহ থেকে মুক্তি এবং রমজানের প্রস্তুতির এক অনন্য সুযোগ। এ কারণে এ রাতকে কেন্দ্র করে নফল ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আলেমরা।

আর এইচ 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।