চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহ্যবাহী সেন্ট প্ল্যাসিডস স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী ‘ওল্ড প্লাসিডিয়ান্স অ্যাসোসিয়েশন (ওপিএ) ফান ফেয়ার ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ মেলায় পরিবেশবান্ধব ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে অংশ নেয় মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সান্নিধ্য (Shannidhyo)।

সান্নিধ্যের স্টলে প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা দেওয়া হয়। পাশাপাশি নগরজীবনে সবুজায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে ছাদবাগান গড়ে তোলার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা হয়।
মেলায় শিশু, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সান্নিধ্যের স্টলটি পরিবেশ সচেতনতার একটি প্রাণবন্ত কেন্দ্রে পরিণত হয়। প্লাস্টিক জমা দিয়ে চারা নেওয়ার মাধ্যমে অনেকেই প্রকৃতি রক্ষার এ উদ্যোগে যুক্ত হন।

আয়োজকরা জানান, ১৯৯১ সাল থেকে ওপিএ-এর মানবিক উদ্যোগে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিনামূল্যে পরিচালিত হয়ে আসছে ‘ওপিএ লিটারেসি স্কুল’। এ স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা ও দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহায়তার জন্য তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর এ ফান ফেয়ারের আয়োজন করা হয়।
এবারের মেলায় পরিবেশ সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেয় সান্নিধ্য।
সংগঠনটির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আসরাফ উদ্দিন আকিফ, অর্থ সম্পাদক জিসান দাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক সালাউদ্দিন সাকিব এবং স্বেচ্ছাসেবক সেন্হা বিশ্বাস, লিজা দাশ, রিয়া দে, মিজানুর রহমান, মো. ত্বোহা ও আবরার দিনভর স্টল পরিচালনা করেন।
সান্নিধ্যের সদস্যরা বলেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। একটি প্লাস্টিক বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করা, একটি গাছ লাগানো কিংবা বাড়ির ছাদে ছোট একটি বাগান তৈরি—প্রতিটি উদ্যোগই পরিবেশ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তাদের প্রত্যাশা, মেলায় বিতরণ করা প্রতিটি চারা একদিন বড় হয়ে কোনো না কোনো ছাদে সবুজের আবরণ তৈরি করবে। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মধ্যে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ আরও বাড়াবে।
সান্নিধ্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি চারা হয়তো একদিনে ছায়া দেবে না, একটি উদ্যোগও রাতারাতি পৃথিবী বদলে দিতে পারে না। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসাই পারে ধীরে ধীরে একটি সবুজ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যত গড়ে তুলতে।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।