নিউ জার্সির স্টেডিয়ামে তখন ইউরোপীয় রক ব্যান্ড ইউরোপ-এর বিখ্যাত গান ‘দ্য ফাইনাল কাউন্টডাউন’ বাজছে। বিরতির পর খেলা শুরু হতেই যেন অপেক্ষার অবসান। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে পেদ্রো পোরোর দারুণ এক ক্রস থেকে নিকো উইলিয়ামস হেডে বল বাড়িয়ে দেন ফেরান তোরেসের দিকে। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড সুযোগ হাতছাড়া করেননি। মাত্র ৩৭ সেকেন্ডের সেই আক্রমণেই জালে বল জড়িয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত সেই একমাত্র গোলেই আর্জেন্টিনাকে ১–০ ব্যবধানে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন। ২০১০ সালের পর ১৬ বছর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো লা রোহারা। একই সঙ্গে ভেঙে গেল লিওনেল মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন।
ম্যাচজুড়ে স্পেনই ছিল পরিষ্কারভাবে এগিয়ে। বল দখল, আক্রমণ কিংবা সুযোগ সৃষ্টি—সব ক্ষেত্রেই আধিপত্য ছিল তাদের। শুরু থেকেই লামিনে ইয়ামাল, দানি ওলমো, নিকো উইলিয়ামস ও মিকেল ওইয়ারসাবালরা একের পর এক আক্রমণে ব্যস্ত রাখেন আর্জেন্টিনার রক্ষণকে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা ছিল ছন্দহীন। মাঝমাঠে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও রদ্রিগো দি পলদের খেলায় ছিল শরীরী লড়াইয়ের প্রাধান্য, তবে আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি আলবিসেলেস্তেরা। পুরো ম্যাচে তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
তবে আর্জেন্টিনাকে এতক্ষণ ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিলেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। স্পেনের একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখান তিনি। তোরেস, লাপোর্তে, রদ্রি, নিকো উইলিয়ামস—সবার শটই প্রতিহত করেন এই গোলরক্ষক। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে তাঁর সেভের সংখ্যা দাঁড়ায় ১০, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের নতুন রেকর্ড।
আর্জেন্টিনার দুর্দশা আরও বাড়ে যোগ করা সময়ে। এনজো ফার্নান্দেজ কুবারসিকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। সংখ্যাগত সুবিধা নিয়ে অতিরিক্ত সময়েও চাপ বাড়াতে থাকে স্পেন।
একবার নিকো উইলিয়ামসের গোল ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়। কিন্তু বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের বিরতির পরপরই তোরেস গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন। পরে তিনি আরও একবার বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হয়।
শেষদিকে হুলিয়ানো সিমিওনের একটি হেড ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে গেলে আর্জেন্টিনার শেষ আশা নিভে যায়।
রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের শেষ বাঁশির সঙ্গে সঙ্গেই উৎসবে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলাররা। ২০১০ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ জিতে নিজেদের জার্সিতে যোগ করল দ্বিতীয় তারকা।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপ ধরে রাখার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামা লিওনেল মেসিকে এবার ফিরতে হলো শূন্য হাতে। ফুটবল তাঁকে অনেক কিছুই দিয়েছে, তবে নিউ জার্সির এই রাতটি শেষ পর্যন্ত স্পেনেরই হয়ে রইল।
এসআই
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।