দক্ষিণ পূর্ব

৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি, আবেগঘন বার্তা অধ্যক্ষ সমীর রঞ্জন নাথের

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৪৪ দুপুর
পঠিত : ২
৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবনের সমাপ্তি, আবেগঘন বার্তা অধ্যক্ষ সমীর রঞ্জন নাথের

ছবি

Degchibarictg

দীর্ঘ ৩৩ বছরের শিক্ষকতা ও দায়িত্ব পালনের অধ্যায় শেষ করলেন কর্ণফুলী আবদুল জলিল চৌধুরী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সমীর রঞ্জন নাথ। শনিবার (১০ অক্টোবর) ছিল কলেজে তাঁর শেষ কর্মদিবস। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতি, শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা এবং সহকর্মীদের সঙ্গে পথচলার নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক ও কলেজ পরিচালনা পরিষদের প্রতি জানিয়েছেন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।

১৯৯৩ সালের ১৬ মে কর্ণফুলী আবদুল জলিল চৌধুরী কলেজে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন সমীর রঞ্জন নাথ। ২০০২ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সহকারী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর উপাধ্যক্ষ পদে যোগ দেন তিনি। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর তাঁকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ এই পথচলায় শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে কলেজটির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে তাঁর জীবনের একটি বড় অধ্যায়।

নিজের কর্মজীবনের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, শিক্ষকতা তাঁর কাছে শুধু একটি পেশা ছিল না; বরং এটি ছিল জীবনের অন্যতম বড় দায়িত্ব, ভালোবাসা ও আত্মপরিচয়ের অংশ। সুদীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে তাঁর মনে হচ্ছে, জীবনের একটি দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।

প্রিয় শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের হাসি, প্রশ্ন, কৌতূহল, সাফল্য ও দুষ্টুমির স্মৃতি তাঁর হৃদয়ে চিরদিন অমলিন থাকবে। একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো, শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মানুষের মতো মানুষ হবে এবং সমাজ ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে। শিক্ষার্থীরা যেখানেই থাকুক, যে পেশাতেই যুক্ত হোক, সততা, ন্যায় ও মানবিকতার পথে চলবে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা ও আশীর্বাদ।

দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, একসঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে সুখ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা এবং নানা প্রতিকূলতা ভাগাভাগি করেছেন। দায়িত্ব পালনের পথে তাঁর কোনো কথা বা সিদ্ধান্তে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। সহকর্মীদের ভালোবাসা, সহযোগিতা, আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার জন্য তাঁদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সমীর রঞ্জন নাথ। তিনি বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব দিয়ে অভিভাবকেরা প্রতিষ্ঠানের ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি সম্ভব নয়। কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারলে তা বিনয়ের সঙ্গে স্বীকার করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ গঠনে সামান্য অবদান রাখতে পারাকেই নিজের আনন্দ ও তৃপ্তি বলে উল্লেখ করেন এই শিক্ষক।

কলেজ পরিচালনা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের আস্থা ও সহযোগিতা তাঁকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ করে দিয়েছে। অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে প্রতিষ্ঠানের বৃহত্তর স্বার্থে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্তে কারও মনে কষ্ট সৃষ্টি হয়ে থাকলে তা ব্যক্তিগতভাবে নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছিল—এ বিষয়টি সবাই সহৃদয়তার সঙ্গে দেখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অবসরজীবন নিয়ে নিজের অনুভূতি তুলে ধরে সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, ‘অবসর মানে দায়িত্বের অবসান, কিন্তু সম্পর্কের অবসান নয়।’ কলেজের প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ, করিডোর, সহকর্মীদের মুখ, শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বর এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা অসংখ্য স্মৃতি তাঁর হৃদয়ে চিরদিন বেঁচে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কর্মস্থলে হয়তো আর প্রতিদিন উপস্থিত থাকা হবে না, কিন্তু প্রতিষ্ঠান ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষদের প্রতি তাঁর শুভকামনা সবসময় থাকবে। জীবনের দীর্ঘ সময়, শ্রম, ভালোবাসা ও আন্তরিকতার বড় একটি অংশ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে—এটাই তাঁর গর্ব।

কর্মজীবনের শেষ দিনে সবার কাছে ক্ষমা ও দোয়া কামনা করে তিনি বলেন, অবসরজীবনের বাকি সময়টুকু সুস্থতা, শান্তি, সৎকর্ম ও মানুষের কল্যাণে ব্যয় করতে চান। তাঁর কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই যেন ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখেন, সেই অনুরোধও জানান তিনি।

সবশেষে সমীর রঞ্জন নাথ বলেন, কর্মস্থল থেকে বিদায় নিলেও প্রিয় শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবসান হবে না। সবার প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও শুভকামনা চিরদিন অটুট থাকবে। দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিময় অধ্যায়ের শেষে তিনি সবার প্রতি জানিয়েছেন আন্তরিক কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

আর /দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।