মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন:
পণ্যবাহী ট্রেইলরের এক শ্রমিক নেতাকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার পরিবহন ও ডেলিভারি কার্যক্রম ফের শুরু হয়েছে।
সোমবার রাত ১০টার দিকে পরিবহন শ্রমিক ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে বৈঠকের পর শ্রমিকরা কাজে ফেরেন।
এর আগে সোমবার বিকেল ৪টার দিকে বন্দরের ৫ নম্বর গেটে গেট পাস নিয়ে বন্দর নিরাপত্তাকর্মী ও ট্রেইলার শ্রমিকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে ট্রেইলার শ্রমিকের পাশাপাশি আশিকুর রহমান নামে বন্দরের এক নিরাপত্তাকর্মী আহত হন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর বিকেল থেকে কনটেইনারবাহী লরি, প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার চলাচল বন্ধ করে দেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে বন্দরের কনটেইনার ডেলিভারি কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়।
পরে রাতে বন্দর ভবনে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শ্রমিকরা তাদের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। মঙ্গলবার লিখিতভাবে এসব দাবি বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হবে বলে জানান আন্তঃজেলা ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সমাজকল্যাণ সম্পাদক শামসুজ্জামান সুমন।
তিনি বলেন, গেট পাসের অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধ, পুরনো কিছু গেট পাস কার্ড সচল করাসহ বেশ কিছু দাবি রয়েছে। এসব দাবি স্মারকলিপির মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পরে বন্দর চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করা হবে।
বৈঠকে সোমবারের ঘটনায় ট্রেইলার কর্মী আহত ও মোবাইল ফোন ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গেট পাসের নির্ধারিত ফি ৫৭ টাকা হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে ট্রেইলার শ্রমিক অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীর বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়।
প্রাইম মুভারস ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম খান বলেন, বাড়তি ফি নেওয়ার প্রতিবাদ করায় তাদের একজনকে মারধর করা হয়েছে। পরে বিষয়টি নিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও ফের উত্তেজনা তৈরি হয়। এর পরই পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।
বৈঠকে প্রাইম মুভারস ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়ন, আন্তঃজেলা ট্রাক কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি, বন্দর ট্রাক মালিক সমিতির নেতারা, বন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বন্দর চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি এবং পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রাত ১০টার কিছু পর থেকে বন্দর দিয়ে কনটেইনার পরিবহন ও ডেলিভারি স্বাভাবিক হয়। চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার কনটেইনার পণ্য ডেলিভারি হয়ে থাকে।
আর/ দক্ষিণপূর্ব
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।