নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) বহিস্কার হয়েছে এক শিক্ষার্থী, কিন্তু বহিস্কারাদেশের চিঠি গেল অন্য শিক্ষার্থীর ঠিকানায়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এই 'ভুলের' মাশুল দিতে হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। যদিও এই বহিস্কারাদেশ নিয়ে 'জল ঘোলা' হয়েছে অনেক। তাঁর উপর ভুল ঠিকানায় চিঠি দিয়ে আবারও সমালোচনার মুখে পড়তে হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে।
জানা গেছে, ৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের আবাসিক জননেত্রী শেখ হাসিনা হলে ছাত্রীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। ওই হলের সামনে রাখা নৌকা আকৃতির বসার স্থান ভাঙচুর করা নিয়ে প্রথমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা ওই হলের ছাত্রীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগও করেছিলেন। পাশাপাশি ভিডিও ধারণ করতে যাওয়া ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদেরও লাঞ্ছনার অভিযোগ উঠেছিল।
তবে ছাত্রীদের অভিযোগ, তাঁরা নৌকা ভাঙার বিপক্ষে নন; বরং প্রশাসন যেন এটি ভাঙে, সে দাবি করেছিলেন। এ জন্য তাঁরা আগেই প্রশাসনকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
ঘটনার দিনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক কোরবান আলীকে শারীরিক লাঞ্ছনা করতে দেখা গেছে এক ছাত্রীকে। আবার আরও একাধিক ভিডিওতে প্রক্টরিয়াল বডিকে ছাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় চবি উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্স হেলথ অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভা থেকে ১১ ছাত্রীকে বহিস্কারের সুপারিশ করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারী ৫৫৯তম সিন্ডিকেট সভায় তাদের একজনের সনদ বাতিলের সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এদের মধ্যে ক্রিমিনোলোজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রওজাতুল জান্নাত ও একই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের জান্নাতুল মাওয়া মিথিলাকে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু জান্নাতুল মাওয়া মিথিলার বহিস্কারাদেশের চিঠি পাঠানো হয়েছে রওজাতুল জান্নাতের বাড়িতে।
এ বিষয়টি রওজাতুল জান্নাত তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে জানিয়েছেন। চিঠি ও খামের ছবি সম্বলিত ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেন, 'চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাঙ্গা-জোড়া প্রশাসনিক কার্যক্রম!!! একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে নিয়জিত কর্মচারীরা এতো মূর্খ, অজ্ঞ, ই রেসপন্সিবল কিভাবে হয় আমার জানা নেই। জান্নাতুল মাওয়া মিথিলার চিঠি, রওজাতুল জান্নাতে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন আমার বিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। ফেনীর চিঠি রংপুরে এসেছে ঈদের দাওয়াত খাইতে। এবার রওজাতুলের চিঠি জান্নাতুল মাওয়ার নামে ফেনীতে যাবে ঈদের দাওয়াত দিতে!!!!! এতো জান্নাতের ছড়াছড়ি যে, উনারা হজম ই করতে পারছে না। কি আজব ভাই!!!! পুকি বিশ্ববিদ্যালয় আমার।'
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।