দক্ষিণ পূর্ব

সেই চবি শিক্ষক সাইদুল বরখাস্ত

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ৩ আগস্ট ২০২৫
পঠিত :
সেই চবি শিক্ষক সাইদুল বরখাস্ত
নিজস্ব প্রতিবেদক 
 
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সমুদ্রবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬২তম সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শুক্রবার (১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত সভায় বরখাস্তের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ তদন্তে নতুন একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়।

সাইদুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কুপ্রস্তাব দেওয়া, যৌন হয়রানি, জোরপূর্বক বিভাগের আসবাবপত্র দখল, অফিসরুম দলীয়করণ, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদেশি স্কলারশিপে আবেদন করা, সহকর্মীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে তেড়ে যাওয়া এবং উপ-উপাচার্যকে নিয়ে কটূক্তিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। 

যার পরিপ্রেক্ষিতে একটা তদন্ত কমিটি হয়েছিল। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন গত শুক্রবার (১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬২তম সিন্ডিকেটে তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে ২য় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট আসার পর।

সিন্ডিকেটের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, সাইদুল ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—শিক্ষার্থীদের কুপ্রস্তাব দেওয়া, যৌন হয়রানি, বিভাগীয় আসবাবপত্র জোরপূর্বক দখল, অফিসরুমকে দলীয়করণ, সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদেশি স্কলারশিপের আবেদন করা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইদুল ইসলাম সরকার বলেন, আমি এখনো কোন তথ্য জানি না। তবে তদন্ত হয়েছে, আমাকে ডেকেছিল। আমি আমার কথা বলেছি। এরপরে এখনো কোন কাগজপত্র পাইনি।

সিন্ডিকেট সদস্য সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেন, সাইদুল সরকারের বিষয়টা এজেন্ডাভুক্ত ছিল। তবে কি সিদ্ধান্ত হয়েছে বলতে পারবো না আমি। তখন ছিলাম না, আগেই বের হয়ে এসেছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সাইদুল ইসলাম সরকারকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। তবে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গঠিত ২য় তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

প্রসঙ্গত, সাইদুল ইসলাম সরকার আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য। জুলাই অভ্যুত্থানের ঘোরবিরোধিতার কারণে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এর আগেও শিক্ষার্থীদের কুপ্রস্তাব দেওয়া, যৌন হয়রানি, জোরপূর্বক বিভাগের আসবাবপত্র দখল, অফিসরুম দলীয়করণ, মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদেশি স্কলারশিপে আবেদন করা, সহকর্মীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে তেড়ে যাওয়া এবং উপ-উপাচার্যকে নিয়ে কটূক্তিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম উঠে আসে, যা একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়েছিল।
 
ইই

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।