দক্ষিণ পূর্ব

নতুন সংকটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

মনির ফয়সাল
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পঠিত :
নতুন সংকটে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
নিজস্ব প্রতিবেদক 

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঝুঁকি বেড়েছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে গত আগস্ট পর্যন্ত প্রায় সোয়া লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এতে কক্সবাজারের শিবিরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ২৪ হাজারে। গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া দৃশ্যমান নয় এবং ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো সম্ভব হবে-এমন কোনো আশার আলোও দেখা যাচ্ছে না। এর বিপরীতে, প্রায় প্রতিদিন নতুন করে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে, যা সংকটকে আরও গভীর করছে।

জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর থেকে মিয়ানমারের জান্তা সরকার আরাকান আর্মির ওপর পাল্টা হামলা শুরু করেছে, যাতে মিয়ানমারের নৌবাহিনীও অংশ নিচ্ছে। এর ফলে রাখাইন রাজ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে এবং সেখান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গতকাল শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, এই সময়কালে সোয়া লাখের মতো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসেছে। কমিশনার আবু সালেহ মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যের সংঘাতের কারণে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে এবং ২০২৪ সাল থেকে নতুন করে প্রায় ১ লাখ ২ হাজার রোহিঙ্গার আগমনের আশঙ্কা করা হচ্ছে। সীমান্তের ওপারে আরও ২৫ থেকে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার অপেক্ষায় আছে। এর সঙ্গে প্রতি বছর ক্যাম্পে জন্ম নিচ্ছে আরও ৩০ হাজার শিশু, যা কক্সবাজারের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কক্সবাজারের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে রোহিঙ্গাদের কারণে। বিভিন্ন আশ্রয়শিবিরে প্রায়ই খুনোখুনির ঘটনা ঘটছে। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ভারী অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছে এবং মাদক চোরাচালানের আখড়ায় পরিণত হয়েছে এসব ক্যাম্প। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমার থেকে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এদের নিয়ে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে এবং ভাসানচরে ১৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। এত বছর পার হয়ে গেলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় কোনো অগ্রগতি নেই। বাংলাদেশ-মিয়ানমার দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টা কিংবা চীনকে যুক্ত করে গঠিত ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগ, কোনোটিই সফল হয়নি। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে থাকা প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গার নাম যাচাই করেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থায়ন কমে যাওয়ায় মানবিক সংকট আরও জটিল হচ্ছে। কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে, যাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক দমন-পীড়নের কারণে পালিয়ে এসেছিল। এমন পরিস্থিতিতে কক্সবাজারে একটি তিন দিনের সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে ৪০টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছে। এই সংলাপটি ৩০ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে একটি উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক ইভেন্ট হিসেবে কাজ করবে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের কাছে রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরা হবে এবং একটি কার্যকর সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

এমএইচএফ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।