দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী’ জোটের দুই পদে স্বামী-স্ত্রী রায়হান উদ্দিন ও উম্মে সালমা জয়ী হয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
ডাকসু নির্বাচনে এর আগে কখনো কোনো স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে প্রার্থী হয়ে জয় লাভ করেননি। এবার এই দম্পতি একই প্যানেলে থেকে নির্বাচিত হওয়ায় কেবল ইতিহাসই সৃষ্টি হয়নি, বরং ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচনে উম্মে ছালমা কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এবং তার স্বামী রায়হান উদ্দিন লড়েন সাধারণ সদস্য (এজিএস) পদে। তারা দু’জনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী।
নির্বাচনে উম্মে ছালমা তার পদে ৯ হাজার ৯২০ ভোট পেয়েছেন বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে, তার স্বামী রায়হান উদ্দিন ৫ হাজার ৮২ ভোট পেয়ে সাধারণ সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন।
জয়ের পর রায়হানউদ্দিন বলেন, “প্রথমেই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। আল্লাহ আমাদের তৌফিক দিয়েছেন কঠোর পরিশ্রম করার, শিক্ষার্থীদের কাছে যাওয়ার, তাদের কথা শোনার। শিক্ষার্থীরা আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন—এটি যেমন আনন্দের জায়গা, তেমনি বড় দায়িত্বও। আমরা সেলিব্রেশন করব না, আমাদের কাজই হবে সেলিব্রেশন।”
তিনি আরও যোগ করেন, “সত্যিকারের অর্জন তখনই হবে, যখন দায়িত্ব শেষে শিক্ষার্থীরা বলবেন—‘তোমরা দুর্দান্ত কাজ করেছ।’”
স্বামী-স্ত্রী দুজনেরই জয় প্রসঙ্গে উম্মে সালমা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে। আমরা দুজনই জয়ী হয়েছি, শিক্ষার্থীরা আমাদের আস্থা রেখেছেন। এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাই।”
নিজের পদ নিয়ে উম্মে সালমা বলেন, “আমি আমার ইশতেহার বাড়তি সাজাইনি। সবসময় শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান নিয়েই কাজ করেছি। এখন দায়িত্ব পেয়ে প্রথমে কাজ করব মাতৃত্বকালীন ছুটিকে বাধ্যতামূলক করার জন্য। অনেক আপুকে ক্লাসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতার কারণে পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়—এটা পরিবর্তন জরুরি।”
তিনি আরও জানান, ক্যাম্পাসে সায়েল কর্নার স্থাপন, কমন রুম ও ক্যাফেটেরিয়ায় সুপেয় পানির ফিল্টার স্থাপন, খাবারের মান উন্নয়ন এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শে স্বাস্থ্যকর খাবার সরবরাহ ।
উম্মে সালমা বলেন, “আমি চাই আমাদের ভাই-বোনেরা যেন পড়াশোনার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে পারে। ইনশাআল্লাহ, সে লক্ষ্যেই কাজ করব।”
এবারের ডাকসু নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ ২৮টি পদের বেশিরভাগ পদে জয়ী হয়েছেন ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’-এর প্রার্থীরা। তারা ১২টি সম্পাদকীয় পদের মধ্যে ৯টিতে জয়ী হয়েছেন। আর বাকি তিনটি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। ভিপি, জিএস, এজিএসসহ ডাকসুতে পদ আছে ২৮টি। এর মধ্যে সদস্যপদ ১৩টি।
এমএইচএফ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।