দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত ৩৮তম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। সারাদিনের ভোটগ্রহণে কোনো ধরনের সংঘাত বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। শুধু ঢাবি ক্যাম্পাস নয়, পুরো দেশজুড়েই তৈরি হয়েছে নির্বাচনী উত্তেজনা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এই প্রথম দেশে কোনো ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন কে হচ্ছেন ডাকসুর ভিপি?
আওয়ামী লীগের দেড় দশকের একক আধিপত্যের পর ২০২৪ সালের ছাত্রজনতার জাগরণ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে দেয়। পতন ঘটে দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের, এবং দমন–পীড়নে স্তব্ধ হয়ে থাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে নতুন করে সক্রিয় হয় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। এর ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ডাকসু নির্বাচন। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ে, সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে এখন গণনার কাজ শুরু হবে এবং নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী আজই প্রকাশ করা হবে ফলাফল।
ভিপি পদ নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনায় উঠে এসেছে বেশ কয়েকটি নাম। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপি–সমর্থিত ছাত্রদলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান, শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম, ছাত্র অধিকার পরিষদের বিনিয়ামিন মোল্লা, বাগচাসের আব্দুল কাদের, স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেন ও উমা ফাতিমা। মাঠ পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভিপি পদে মূল লড়াই হতে পারে আবিদুল ইসলাম খান, আবু সাদিক কায়েম এবং শামীম হোসেনের মধ্যে। তবে শেষ কথা বলবে নির্বাচনের ফলাফল।
ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ছাত্রদের একটি বড় অংশের কাছে পরিচিত। তার কোচিং কেন্দ্রিক জনপ্রিয়তা রয়েছে, বিশেষ করে প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের বা অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তার প্রভাব কতটা, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়।
ছাত্রশিবির সমর্থিত প্রার্থী সাদিক কায়েমের অবস্থানও আলোচনায় রয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিবির নিয়ে দ্বিধা থাকলেও তার প্রতি ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সাদিক কায়েম তার সংগঠনের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করতে পারবেন বলে ধারনা তাদের। ইতোমধ্যে সেই প্রমাণ মিলেছে, তার কিছু কাজে। নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয় জুলাই আন্দোলনে সমন্বয়কদের সমন্বয় করা এই ছাত্রনেতা।
অন্যদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী উমামা ফাতেমা অরাজনৈতিক ও নারী ভোটারদের মাঝে তুলনামূলক এগিয়ে আছেন বলে অনেকে মনে করছেন।
ভিপি প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শামীম হোসেনও। শেষ ক’দিনে তিনি প্রচারণায় বেশ আলোড়ন তুলেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে পরিচিত শামীম হোসেন অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের মাঝে জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, তিনি শেষ সময়ে কোনো চমক দেখাতে পারেন।
ভিপি পদ গুরুত্বপূর্ণ কেন?
ডাকসুর ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) পদটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কারণ এই পদধারী হলেন মূলত ছাত্রসমাজের মুখপাত্র। তিনি ডাকসুর সভার সভাপতিত্ব করেন, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেন এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা নিয়ে প্রয়োজন হলে আন্দোলনের অগ্রভাগে থাকেন। তার দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সেতুবন্ধন রক্ষা করা।
এ ছাড়াও, ডাকসুর ভিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সংস্থা- সিনেট ও সিন্ডিকেটের সদস্য হতে পারেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে ছাত্রসমাজের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে। অর্থনৈতিক দিক থেকে এই পদে কোনো মাসিক বেতন না থাকলেও, ভিপি ও জিএস পদের জন্য এককালীন ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়, যা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা হয়।
ডাকসুতে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। এর মধ্যে পাঁচটি ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ জন আর ১৩টি ছাত্র হলে ভোটার রয়েছেন ২০ হাজার ৯১৫ জন। এবারের নির্বাচনে ডাকসুতে ২৮টি পদের বিপরীতে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বিভিন্ন পদে ছাত্রী রয়েছেন ৬২ জন। এছাড়া প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪টি। এসব পদে ভোটে লড়ছেন এক হাজার ৩৫ জন।
এমএইচএফ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।