দক্ষিণ পূর্ব

হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার শহীদি স্বীকৃতি মিললো চবির মার্কশিটে

sathi
প্রকাশ : ২৩ মে ২০২৫
পঠিত :
হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার শহীদি স্বীকৃতি মিললো চবির মার্কশিটে
চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে আজ বুধবার। অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতোই প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে একটি পরিচিত নাম—হৃদয় চন্দ্র তরুয়া। নামটি আছে, রোল নম্বরও ঠিক। কিন্তু ওই শিক্ষার্থী আর নেই। 

তার মার্কশীটে লেখা আছে, “He sacrificed his life in the Anti-Discrimination Students Movement-2024.” ইতিহাস বিভাগের ওই আসন এখন শূন্য। কারণ, হৃদয় এখন শুধুই ইতিহাস—একটি আন্দোলনে শহীদ হওয়া শিক্ষার্থীর নাম। এভাবে তরুয়া চন্দ্র তরুয়ার শহীদি স্বীকৃতি মিলল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কশিটে।

হৃদয় চন্দ্র তরুয়া ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তার বাড়ি পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার ঘটকেরআন্দুয়া গ্রামে। বাবা রতন চন্দ্র তরুয়া একজন কাঠমিস্ত্রি এবং মা অর্চনা রানী তরুয়া অন্যের বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পরিবারটি চরম অর্থকষ্টে থাকলেও, হৃদয়ের মেধা ও অধ্যবসায়ে আশার আলো দেখছিল।

হৃদয় ছিলেন একমাত্র সন্তান। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে হৃদয় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করে ভর্তি হন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিজের স্বপ্ন ছিল, একদিন বিসিএস দিয়ে বড় কর্মকর্তা হবেন, অভাব ঘুচাবেন পরিবারের।তরুয়ার  পরিবারের স্বপ্ন ছিল, তিনি একদিন বড় চাকরি করে তাদের দুঃখ দূর করবেন।  টিউশনি করে নিজের খরচ চালাতেন এবখ মাঝে মাঝে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। হৃদয় ছিলেন শান্তশিষ্ট, বইপ্রেমী এবং ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন।

২০২৪ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলন নতুন করে দানা বাঁধে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা “যুক্তিযুক্ত কোটা পদ্ধতি” ও “মেধা ভিত্তিক নিয়োগ” দাবি করে রাস্তায় নামে। চট্টগ্রামেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। হৃদয়ও এই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তার ফেসবুক পোস্টগুলোতে দেখা যায়, তিনি রাষ্ট্র ও সমাজের অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলতেন।

২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, চট্টগ্রাম শহরের বহদ্দারহাট মোড়ে আন্দোলন চলাকালে পুলিশ ও সরকারি দলের লোকজন আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন হৃদয় গুলিবিদ্ধ হন। গুলিটি তার বাম পাশে ঢুকে ফুসফুস ছিঁড়ে বের হয়ে যায়।ওকে প্রথমে পার্ক ভিউ হসপিটালে নেওয়া হয়।তারপরের দিন সন্ধ্যায় ওকে আইসিইউ এ্যাম্বুলেন্স করে ঢাকায় বক্ষ্যবেধী হাসপাতালে পাঠানো হয়।তারপর ওখান থেকে ঢাকায় সিএমসিতে পাঠানো হয়।চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ জুলাই, রাত ৫ টা ২১ মিনিটে হৃদয় মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সারাদেশে ছাত্র সমাজ এবং নাগরিক মহলে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

হৃদয়ের স্মৃতির সংরক্ষণ: হৃদয়ের স্মৃতিকে অমর করে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে তার গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।তার নামে নতুন কলা অনুষেদের নামকরণ করা হয়েছে।  বন্ধুরা তাকে বিপ্লব ও তারুণ্যের প্রতীক হিসেবে স্মরণ করছেন।  
হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার আত্মত্যাগ দেশের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।  তার স্মৃতি আমাদের প্রেরণা জোগাবে ন্যায়ের জন্য সংগ্রামে।

ইই

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।