নিজস্ব প্রতিবেদক :
কর্ণফুলী থানার বিশেষ অভিযানে ১৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবাসহ একই পরিবারের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার চালানটি চট্টগ্রাম মহানগর ও আশপাশের এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মধ্যরাতে কর্ণফুলী থানাধীন মইজ্যারটেক মোড় এলাকায় স্থাপিত পুলিশ চেকপোস্টে রয়েল কক্স সার্ভিসের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের কাছে থাকা তিনটি কাপড়ের ব্যাগে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা তিনটি প্যাকেট থেকে মোট ১৬ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন কক্সবাজার জেলার বাসিন্দা মো. ফারুক (৩২), ছকিনা আক্তার সুমি (৩৯) ও রিনা আক্তার (৩০)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা একই পরিবারের সদস্য।
পুলিশ সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিনের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) চয়ন কুমার দাশ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযানটি পরিচালনা করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা শুধু মাদক পরিবহনের সঙ্গে জড়িত, নাকি বড় কোনো মাদক সিন্ডিকেটের সদস্য—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য আর্থিক লেনদেনও যাচাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি এই চালানের মূল উৎস, অর্থদাতা ও গ্রহণকারীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর-০৭। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তার তিনজনকে আদালতে পাঠানো হয়।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, কর্ণফুলী থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানের অংশ হিসেবেই এই ইয়াবার চালান জব্দ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু বাহককে গ্রেপ্তার করেই দায়িত্ব শেষ করছি না। এই ইয়াবার মূল উৎস, অর্থদাতা, গ্রহণকারী এবং পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, নগরীতে মাদক পাচার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত চক্রগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক এনে নগরীতে সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলবে।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।