দক্ষিণ পূর্ব

কুমিল্লায় ২০ বছর পর ৩ জেএমবি সদস্যের কারাদণ্ড

দক্ষিণপূর্ব ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬
পঠিত :
কুমিল্লায় ২০ বছর পর ৩ জেএমবি সদস্যের কারাদণ্ড

ছবি

কুমিল্লায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে দায়ের করা একটি আলোচিত মামলার প্রায় ২০ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। মামলায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততায় দুইজনকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুন নেছা এই রায় দেন।

 

কুমিল্লার আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মো. সাদেকুর রহমান  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, নওগাঁ জেলার কলমীডাঙ্গা গ্রামের মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু এবং গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।

 

মামলার অভিযোগ ও আদালত সূত্রে গেছে, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ গভীর রাতে জেএমবি সদস্যদের নাশকতার পরিকল্পনার খবর পেয়ে কুমিল্লা নগরীর বিষ্ণুপুর এলাকার রৌশন ভিলায় র‌্যাব-৭-এর একটি অভিযান পরিচালিত হয়। রাতভর ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে র‌্যাব সদস্যরা বোমা তৈরির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন বিস্ফোরকদ্রব্য, রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বোমা তৈরির ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারিসহ বেশকিছু উপকরণ উদ্ধার করে।

 

এ ঘটনায় তৎকালীন র‌্যাব-৭-এর ডিএডি মো. জয়নাল আবেদীন কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

 

মামলায় অভিযোগ করা হয়, তৎকালীন র‌্যাবের ঢাকাস্থ সদর দপ্তরের হেফাজতে থাকা জেএমবি নেতা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় জেএমবি সদস্যদের অবস্থান ও তাদের আটক করতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

কুমিল্লা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু বলেন, এ মামলাটি বেশ আলোচিত ছিল। মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা এবং মামলার অন্যান্য নথি পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত দণ্ডাদেশ দিয়েছেন।

 

রায়ে বিচারক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ দুরুল হুদাকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানীকে আট বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আদালত খালেদা আক্তার রানীর সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার তিন সন্তান থাকা, তার স্বামী কারাগারে থাকা এবং তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয় বিবেচনায় নিয়েছেন বলে মামলার রায়ে উল্লেখ রয়েছে। পরে দুপুর ২টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় আসামিদের কারাগারে নেওয়া হয়।

এসআই/দক্ষিণপূর্ব

 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।